ইরানের গত কয়েক দশকের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে দেশটির প্রশাসন। বুধবার(১৪ জানুয়ারি) তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ফোয়াদ ইজাদি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাজপথে বড় ধরনের কোনো বিক্ষোভ বা দাঙ্গার ঘটনা আর ঘটেনি। তার মতে দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারের কবজায় চলে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির আহ্বানে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর পরপরই সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় যা এখনো বহাল রয়েছে।
অধ্যাপক ইজাদি এই পদক্ষেপকে নিরাপত্তার জন্য জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, সে সময় ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের ইন্টারনেট পরিকাঠামো ব্যবহার করে নাশকতামূলক কার্যক্রমের কমান্ড সেন্টার পরিচালনা করেছিল।
আরও
আল জাজিরার পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার থেকে ইরানের বড় বড় শহরগুলোর রাজপথ এখন মূলত সরকারপন্থিদের দখলে। সাধারণ বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে এবং হাজার হাজার সরকার সমর্থক মিছিলে অংশ নিয়ে প্রশাসনের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করছেন।
অধ্যাপক ইজাদির মতে চলমান বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের চেয়ে সশস্ত্র ‘দাঙ্গাবাজদের’ তৎপরতা বেশি ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভের নামে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে এবং যেসব সাধারণ ব্যবসায়ী তাদের দোকান খোলা রেখেছিলেন তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী এই বিশৃঙ্খলার পেছনে সরাসরি বিদেশি মদদ রয়েছে।










