ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বুধবার থেকে নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যেই সরকার পতনের দাবি জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর পদত্যাগের আহ্বান তুলেছেন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’—এমন স্লোগান।
রাজধানী ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাষ্ট্রীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতির চরম উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এর পরপরই দেশটির এলিট বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, চলমান অস্থিরতা আর অব্যাহত থাকতে দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অভিযান শুরু করে।
আরও
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, রাজধানী তেহরানে এক রাতেই দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসকের বরাতে বলা হয়, তেহরানের অন্তত ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আবারও সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট ঘোষণা দিয়েছেন, যারা নাশকতা চালাবে বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় ইরানজুড়ে বড় ধরনের দমন অভিযানের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।










