বিয়ের আসর থেকে আচমকা বরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই হাতে মেহেদি ও গায়ে হলুদের রং মেখেই সটান থানায় হাজির কনে। তাঁর আকুতি, অন্তত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা পর্যন্ত যেন বরকে মুক্তি দেওয়া হয়। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ঘটা এমন নাটকীয় ঘটনার খবর আজ শনিবার (১৪ মার্চ) প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের মণ্ডপ থেকে বরকে গ্রেপ্তারের পর থানায় গিয়ে কনের এমন অনুনয়-বিনয়ে পুরো ঘটনা মুহূর্তেই চরম নাটকীয়তায় রূপ নেয়, যা দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরাও রীতিমতো বিস্মিত হন। থানায় এসে কাঁদতে কাঁদতে সীমা নামের ওই কনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘সাহেব, আমার তো জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমার কী দোষ? সে কী অপরাধ করেছে, তা তো আমি জানতাম না। বাড়িতে সব অতিথি অপেক্ষা করছেন। গায়েহলুদসহ বিয়ের সব আচার-অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।’
এ সময় কনে সীমা পুলিশকে বিনীতভাবে অনুরোধ করেন, অন্তত দুই ঘণ্টার জন্য তাঁর বাগদত্তা আকাশ ওরফে ভূরাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতাটুকু সম্পন্ন করা যায়। পুলিশ তাঁর এই আবেদনে সাড়া না দিলে তিনি আরেকটি চমকপ্রদ প্রস্তাব দিয়ে বসেন। সীমা বলেন, যদি বরকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না-ই হয়, তবে অন্তত পুলিশ হেফাজতের মধ্যেই যেন তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন করতে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ তাঁর কোনো প্রস্তাবেই সম্মতি দেয়নি।
আরও
নাটকীয় এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার দুপুরে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঠিক আগেই পুলিশের একটি দল আসরে পৌঁছায় এবং ‘ইল্লিগ্যাল গ্যাং’ নামের একটি অপরাধী চক্রের নেতা হিসেবে অভিযুক্ত আকাশ নীলকান্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পবিত্র বিয়ের আসর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এভাবে বরকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় উপস্থিত অতিথি ও আশপাশের লোকজন হতবাক হয়ে যান।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই অভিযানে শুধু আকাশই নন, তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই সহযোগীরা হলেন রাজামজি ঠাকুর, অভিষেক উপাধ্যায়, অভিষেক মীনা, নীরজ খাঙ্গে ও অমিত ওসওয়াল। পরে গ্রেপ্তার হওয়া সব অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।













