ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা প্রেমিকাকে টানা তিন দিন ধরে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে উল্টো তরুণীর ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালান শিবম নামের ওই তরুণ। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অবর্ণনীয় এই নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিয়ে নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে টানা তিন দিন ধরে ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর ওপর নারকীয় নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, নির্যাতনের একপর্যায়ে শিবম তাঁর যৌনাঙ্গে স্যানিটাইজার ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ছাড়া তাঁর মাথা একাধিকবার দেয়ালে ঠুকে দেওয়া হয় এবং ভাঙা কাচের বোতল দিয়ে শরীরে আঘাত করা হয়। এমনকি একটি ছুরি নিয়ে তাঁকে হত্যারও চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শিবম। মুমূর্ষু অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) হয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তরুণীর অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মূল বাড়ি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এবং অভিযুক্ত শিবমের বাড়ি দিল্লিতে। পড়াশোনার সূত্রে তাঁরা দুজনেই গুরুগ্রামে থাকতেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা গুরুগ্রামের একটি বাসায় লিভ-ইন বা একসঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন। দুই পরিবারের মধ্যে তাঁদের বিয়ে নিয়ে আলোচনা চললেও শিবম বিয়ে করতে আগ্রহী ছিলেন না। মূলত এই বিয়ের বিষয়টি নিয়েই দুজনের মধ্যে চরম বিরোধের সূত্রপাত হয়, যার পরিণতি গড়ায় এমন নৃশংসতায়।
আরও
এ বিষয়ে গুরুগ্রামের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) হিতেশ যাদব জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিবমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী তরুণীর মা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে যে ওই যুবকের সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন, তা পরিবারের কেউ জানতেন না। এমন পাশবিক ও অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি অভিযুক্ত যুবকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন।












