ভারতের মুম্বাইয়ের কাফে প্যারেড এলাকায় এক লোমহর্ষক ঘটনায় ২০ বছর বয়সী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তরুণীর গর্ভস্থ ভ্রূণের জৈবিক পিতা আর কেউ নন, স্বয়ং তাঁর জন্মদাতা। ‘ইনসেস্ট’ বা অজাচারের এই নৃশংস ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সে সময় তরুণী তাঁর দাদিকে ইশারায় পেটের ভেতর অস্বাভাবিক নড়াচড়ার কথা জানালে তাঁকে মুম্বাইয়ের কামা অ্যান্ড আলব্লেস হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন, তিনি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তের শুরুতে ভুক্তভোগীর ইশারা-ঙ্গিতের ভিত্তিতে পুলিশ বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং সন্দেহভাজন হিসেবে এক যুবক ও এক কিশোরকে আটক করেছিল। তবে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করতে পুলিশ মোট ১৭ জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। গত ২৭ জানুয়ারি পুলিশের হাতে আসা ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, আটককৃত অন্যদের নয়, বরং কেবল বাবার ডিএনএ-ই ভ্রূণের সঙ্গে মিলেছে। এই বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণের পরই পুলিশ বাবাকে গ্রেপ্তার করে।
আরও
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। ভুক্তভোগী কথা বলতে অক্ষম এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় অভিযোগ করতে চাইছিলেন না। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাবা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেয়ের গর্ভধারণ নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, এমনকি তিনি থানায় মামলা করতেও অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী তরুণীকে আশ্বস্ত করা হলে গত ২২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত বছরের মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ ঘরেই একাধিকবার এই পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হন ওই তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা বা প্ররোচনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।












