চার বছর বয়সী সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে ভারতের নাগরিক সৈকত বসু তার রাশিয়ান স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বসুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়া সন্তানকে নিয়ে গোপনে রাশিয়ায় পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুক্রবার মামলাটির শুনানি হয়। আদালত রাশিয়ান নারীর অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জানায়, অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত মামলার বিচার চলাকালেই তিনি সন্তানসহ ভারতে থেকে পালিয়ে যান। রাশিয়ান দূতাবাস থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় আদালত অসন্তোষ জানায়।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানায়, ভিক্টোরিয়া বসু সম্ভবত নেপাল সীমান্ত হয়ে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। বিচারপতি সুর্যকান্ত ও জয়মাল্য বাগচির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, “আমরা এমন কোনো রায় দিতে চাই না যা দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে, তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি শিশুর জীবনের সঙ্গে জড়িত।” আদালত আশা প্রকাশ করে যে শিশুটি নিরাপদে আছে এবং এটি কোনো মানবপাচার বা শোষণের ঘটনা নয়। রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহের জন্য আদালত সরকারকে আরও দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে।
এ মামলার পটভূমিতে ভারত ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। দুই দেশ সম্প্রতি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫ বছর উদযাপন করেছে এবং ডিসেম্বরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে। আদালত দিল্লি পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে, যেখানে ভিক্টোরিয়া ও তার সন্তানের অবস্থান খোঁজার প্রচেষ্টার বিস্তারিত উল্লেখ ছিল। সৈকত বসু জানান, তিনি স্ত্রী ও সন্তানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ এবং গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
আরও
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোতে ভারতীয় দূতাবাস রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সহযোগিতা পায়নি। এছাড়া নেপালে যাদের সহযোগিতায় ভিক্টোরিয়া দেশ ছাড়তে পেরেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের বিষয়ে তদন্তে দিল্লি পুলিশকে সহায়তা করছে মন্ত্রণালয়। দিল্লি পুলিশও জানায়, তারা রাশিয়ান দূতাবাস ও ব্যাংক অব রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটী আদালতকে জানান, রাশিয়ান দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরকার জানায়, ভিক্টোরিয়া একজন রাশিয়ান নাগরিক, যিনি ২০১৯ সাল থেকে ভারতে বসবাস করছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও আদালতের নির্দেশে সেটি সময় সময় নবায়ন করা হয়েছিল। আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইন্টারপোলের সহায়তায় ভিক্টোরিয়ার অবস্থান অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় এবং সতর্ক করে জানায়—যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কঠোরতম আদেশ জারি করা হবে। আদালত দিল্লি পুলিশের গাফিলতিকে দায়ী করে মন্তব্য করে, তাদের অবহেলার কারণেই ওই নারী দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন।












