খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় ভারতের ইন্ধন থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অক্ষম এবং নিয়মিতভাবে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। তিনি এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জয়সওয়াল আরও বলেন, বাংলাদেশের উচিত আত্মসমালোচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর স্থানীয় উগ্রবাদীদের সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা। তিনি বলেন, দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রশাসনের উচিত নিজ দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়া।
উল্লেখ্য, ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় মারমা জাতির এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর জেলা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এক ১৯ বছর বয়সী যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়, যা ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকে। এই সময় বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে, ফলে তিনজন নিহত হন।
আরও
ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক জানিয়েছেন, কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এর পরও ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দাবি করেন, খাগড়াছড়িতে সহিংসতার পেছনে ভারতের ইন্ধন রয়েছে। তিনি জানান, উৎসবের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে একটি ‘মহল’ পরিস্থিতি উত্তেজিত করছে।
জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি বলেন, কিছু সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে গুলি চালিয়েছে, তবে দেশের নাম উল্লেখ করতে চাননি। বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় অবস্থা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।











