মুম্বাইয়ের সরকারি স্যার জে জে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বাংলাদেশি গর্ভবতী রুবিনা ইরশাদ শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, নভি-মুম্বাইয়ের সেক্টর-৫-এ অবৈধভাবে বসবাস করার অভিযোগে তাকে ১৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় তার মা আয়েশা ইরশাদ শেখ, বড় ভাই হুসেন শেখ, বোন রেশমা ইরশাদ শেখ ও ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাইকেও আটক করা হয়।
রুবিনার অসুস্থতা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকার সময় গত ১৪ আগস্ট হঠাৎ নিরাপত্তার চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে উধাও হন। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালের বাইরে এবং ভেতরে তাকে পুলিশ সদস্যরাও পাহারা দিচ্ছিলেন। আলট্রাসনোগ্রাফির জন্য এক নারী কনস্টেবল রুবিনাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময় শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
এই ঘটনার পর স্যার জে জে মার্গ পুলিশ থানায় অতিরিক্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভাসি পুলিশের তদন্তকারী দল সম্ভাব্য সব জায়গায় রুবিনার খোঁজ চালাচ্ছে। তবে হাসপাতালের বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রুবিনাকে ফেরত আনার জন্য তারা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আরও
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রুবিনার মা আয়েশা ইরশাদ শেখ বাংলাদেশের যশোর জেলার ভাটপাড়া থানার মহেশ খুলা গ্রামের বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে তিনি বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় রুবিনাসহ পরিবারের কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট ও অন্যান্য পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তারা ভুয়া নথি ব্যবহার করে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন।
ভারতে অবৈধ বসবাস ও ভুয়া নথি ব্যবহারের অভিযোগে পরিবারের বিরুদ্ধে ১৪ ফরেনার্স অ্যাক্ট, পাসপোর্ট আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কারাগারে থাকার সময় অসুস্থতা দেখা দেয়ার পর রুবিনাকে ১১ আগস্ট হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জানা যায়, তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তবে তিন দিন পরই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।











