চীন প্রথমবারের মতো আকাশে ভাসমান একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু করেছে, যা মোবাইল চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষভাবে রূপান্তরিত যাত্রীবাহী বিমানের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক সার্জারি কেবিন, বিভিন্ন ল্যাব সুবিধা এবং উন্নত টেলিমেডিসিন প্রযুক্তি। একে শুধুমাত্র এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত হাসপাতাল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাধারণ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যেখানে মূলত রোগী পরিবহনের কাজে সীমাবদ্ধ, সেখানে এই আকাশ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা উড়ন্ত অবস্থাতেই রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ছোটখাটো অস্ত্রোপচার এবং জটিল চিকিৎসার পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চল বা দুর্গম এলাকায় জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
বিমানের প্রথম সফল মিশন পরিচালিত হয়েছে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে। সেখানে চিকিৎসক দল বিমানের ভেতরেই চোখের চিকিৎসা, কানের পরীক্ষা, নাক–গলার রোগ নির্ণয় এবং কয়েকটি ছোট সার্জারি সম্পন্ন করেন। বিমানে রয়েছে পৃথক জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা জোন, ডায়াগনস্টিক ইমেজিং সিস্টেম এবং ৫জি-নির্ভর ভিডিও কনসালটেশন, যার মাধ্যমে ভূমিতে থাকা বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিতে পারেন।
আরও
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্গম এলাকা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে এই আকাশভিত্তিক হাসপাতাল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোতায়েন করা সম্ভব। স্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের সুযোগ না থাকা অঞ্চলগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে এই মডেল ব্যাপকভাবে কার্যকর হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমিয়ে আনতে উদ্ভাবিত এ উড়ন্ত হাসপাতাল ভবিষ্যতে বয়স্ক, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা বা দুর্যোগ–আক্রান্ত মানুষের জন্য দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চীন বলছে, এটি শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়—জনগণের দরজায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার নতুন কৌশল।











