চীন নতুন এক অভূতপূর্ব ভিসা নীতি চালু করেছে, যার নাম কে-ভিসা। শীর্ষ প্রযুক্তি খাতের মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে তৈরি এই ভিসার জন্য কোনো চাকরির প্রস্তাব থাকা আবশ্যক নয়। চীন এই উদ্যোগকে তাদের বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অগ্রগতির এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
নতুন কে-ভিসা মূলত বিদেশি বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য একটি নমনীয় সুযোগ নিয়ে এসেছে। প্রচলিত চীনা ওয়ার্ক ভিসার মতো এতে স্থানীয় নিয়োগকর্তার প্রয়োজন নেই। বরং প্রার্থীর বয়স, শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হবে। ৪৫ বছরের কম বয়সী এবং বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি প্রাপ্ত অথবা শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা থাকা প্রার্থীরা এই ভিসার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি চীনের অভিবাসন নীতিতে এক বড় পরিবর্তন। উদ্যোক্তা আর্নো বার্ট্রান্ড বলেন, “চীন প্রায় শূন্য অভিবাসন নীতি থেকে এখন বিশ্বের অন্যতম উন্মুক্ত দক্ষ অভিবাসন নীতির দিকে এগিয়েছে—যা অনেক পশ্চিমা দেশের চেয়েও বেশি উন্মুক্ত।”
আরও
কে-ভিসা চীনকে বৈশ্বিক প্রতিভাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে, বিশেষত সেই সময়ে যখন পশ্চিমা দেশগুলো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়াচ্ছে। বার্ট্রান্ড আরও উল্লেখ করেন, “মুক্ত ও উন্মুক্ত এই লেবেলটি এখন ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে চীনের দখলে যাচ্ছে।”
এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে চীনের নেতৃত্ব আরও দৃঢ় হবে। বৈশ্বিক উদ্ভাবকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চীন তাদের উচ্চপ্রযুক্তির ইকোসিস্টেমকে প্রসারিত করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, কে-ভিসা বিশ্বসেরা প্রতিভাদের নিয়ে প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করবে এবং যারা পশ্চিমা দেশের জটিল ভিসা প্রক্রিয়ায় আটকে থাকেন, তাদের জন্য একটি বিকল্প পথ খুলে দেবে।












