সর্বশেষ

দিল্লিতে যে পরিচয়ে ‘সেফ হাউসে’ রাখা হয়েছে হাসিনা-রেহানাকে

দিল্লিতে যে পরিচয়ে 'সেফ হাউসে' রাখা হয়েছে হাসিনা রেহানাকেCity ads Investment (1)

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত পাঁচ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনাসহ সঙ্গে থাকা ছোট বোন শেখ রেহানাও।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন তারা। জানা গেছে, দিল্লির উপকণ্ঠে একটি আধাসামরিক বাহিনীর অতিথি নিবাস বা ‘সেফ হাউসে’ই দুই বোনকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে।

এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পার্লামেন্টে জানান,ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’ সে দেশে যাওয়ার অনুমোদন চেয়েছিল এবং তা মঞ্জুর হওয়ার পরই তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন। তবে ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ শেখ হাসিনা এই মুহূর্তে ভারতে রয়েছেন, স্পষ্ট করে জানায়নি ভারত।

অর্থাৎ তিনি কোনো বিশেষ ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, নাকি তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম) দেওয়া হয়েছে– এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার আজ পর্যন্ত একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠছে, ভারতে এই মুহূর্তে তার অবস্থানের ইমিগ্রেশন (অভিবাসন)- বৈধতাটা ঠিক কী এবং সেই স্ট্যাটাস কতদিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে?

এদিকে দিল্লি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছে, শেখ হাসিনার যে ‘ডিপ্লোম্যাটিক বা অফিশিয়াল’ পাসপোর্ট ছিল তা এখনো বৈধ এবং সেই পাসপোর্টের সুবাদে তিনি অন্তত দেড় মাস কোনো ভিসা ছাড়াই অনায়াসে ভারতে অবস্থান করতে পারেন।

ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ভারতে গেছেন ১৫ দিন হয়ে গেছে। ভারতের আইন অনুযায়ী আরও ৩০ দিন দেশটিতে থাকতে পারবেন তিনি। যদি-না এর মধ্যে সেই পাসপোর্ট ‘রিভোকড’ বা প্রত্যাহৃত হয়। তাই বর্তমান অবস্থান সম্পূর্ণ আইনসম্মত, ভারতের এ ক্ষেত্রে আলাদা করে কোনো ব্যবস্থা নেয়ারও প্রয়োজনও নেই।

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ভারতে শেখ হাসিনার এই মুহূর্তে অবস্থানের ভিত্তিটা হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট’। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের মধ্যে ঢাকাতে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

ভারতের পক্ষে ঐ সমঝোতাপত্রে সই করেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন বিশেষ সচিব (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) ব্রজরাজ শর্মা। আর বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষরকারী ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা পরিষেবা বিভাগের তখনকার সচিব ফরিদউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এই সমঝোতাটি তারপর নিয়মিত ব্যবধানে নবায়ন করার কথা, যা এ বছরের শুরুর দিকে করাও হয়েছে।

ঐ সমঝোতাপত্রের ১(এ) ধারাতেই পরিষ্কার উল্লেখ করা আছে, উভয় দেশের ডিপ্লোম্যাটিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের ৪৫ দিনের মেয়াদে ভিসা ছাড়াই বসবাসের জন্য (‘ভিসা ফ্রি রেজিম’) থাকতে দিতে দুই দেশ পারস্পরিকভাবে রাজি হয়েছে।

এই সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশের ডিপ্লোম্যাটিক/অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীরা ভারতে ভিসা ছাড়াই ৪৫ দিন থাকতে পারবেন – আবার অন্যদিকে ভারতের ঐ বিশেষ ধরনের পাসপোর্টধারীরা বাংলাদেশেও ঠিক একই সুবিধা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা যখন দেশত্যাগ করেন, তার ডিপ্লোম্যাটিক বা অফিশিয়াল পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বৈধ ছিল এবং এখন পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়নি। সদ্য দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও তা বাতিল করেনি।

ফলে যতদিন সেই পাসপোর্ট বহাল থাকছে, তার ভিত্তিতেই দু’দেশের মধ্যেকার সমঝোতা অনুযায়ী তিনি টেকনিক্যালি কোনো ধরনের ভিসা ছাড়াই ৪৫ দিন ভারতে অবস্থান করতে পারবেন, যার মধ্যে মাত্র ১৫ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে।

তবে এই দেড় মাসের মধ্যে যদি শেখ হাসিনার বর্তমান পাসপোর্ট ‘রিভোক’ বা বাতিল করা হয়, তাহলে ভারতের কী করণীয় আছে?

দিল্লির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, সেটাও বড় কোনো সমস্যা নয়, কারণ এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের ‘প্ল্যান বি’ বা ‘প্ল্যান সি’ প্রস্তুত রাখতেই হয়। এখানেও নিশ্চয়ই সেটা তৈরি আছে।

 

আরও দেখুন:

https://www.youtube.com/watch?v=77YmONQjG4g

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Probashir city Popup
Probashir city Squre Popup 19 03