ভাগ্য বদলের আশায় সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন ফরিদ মিয়া। সেখানে রিয়াদ শহরে তিনি একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করতেন। আগামী সোমবার দেশে আসার কথা ছিল।
দেশে আসার খবরে আনন্দে স্ত্রী, সন্তানসহ মায়ের জন্য কেনাকাটার কাজ করেন। ল্যাগেজ বেঁধে সব প্রস্তুতি শেষ করেন। প্রতিক্ষার পালা শেষে কবে সোমবার আসবে। এরইমধ্যে হঠাৎ গত ৩ দিন আগে স্ট্রোক করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।
ফরিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তোলাবাড়ি গ্রামের মৃত ছায়েদ মিয়ার ছেলে। তার পরিবারে মা, স্ত্রী, ২ মেয়ে ১ ছেলে রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শুক্রবার সেখান থেকে ফরিদের এক বন্ধু মোবাইলের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবরটি বাড়িতে জানান। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
আরও
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে ফরিদ মিয়া সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে রিয়াদ শহরে তিনি একটি বড় কোম্পানিতে কাজ করতেন। সর্বশেষ গত প্রায় ২ বছর আগে দেশে আসেন। আগামী সোমবার দেশে আসার কথা ছিল।
এরমধ্যে বাড়িতে আসার বেশ প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাসায় ফেরেন ফরিদ। এরপর রাতে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান। হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এ অবস্থায় তার রুমমেটরা দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ রিয়াদ শহরের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লাশ দেশে আনার চেষ্টা করছেন তার স্বজনরা।
এদিকে তার মৃত্যুর খবর সকালে বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠে। স্বামীর শোকে ছেলে-মেয়ে নিয়ে এক প্রকার স্তব্ধ হয়ে যান স্ত্রী। তার চোখে পানি থাকলে মুখে কোনো শব্দ নেই। এখন কিভাবে তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাঁচবেন তা যেন তিনি বুঝতে পারছিলেন না।
ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ফরিদ খুবই কর্মঠ মানুষ ছিলেন। দেশে থাকতে কাজ ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে অনেক কষ্ট করে বিদেশে যান। এরপর পরিবারটা ভালোই চলছিল। হঠাৎ স্ট্রোক করে এভাবে তিনি মারা যাবেন তা কখনো ভাবেননি।









