বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এখানে যোগ দেওয়ার শর্তে বিএসএমএমইউর ১৫৭ চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ২ থেকে ৪ মাসের প্রশিক্ষণে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান। দেশে ফিরে তাদের ৭২ জন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন, ৮৫ জন যোগ দেননি। শুধু যে চিকিৎসকরাই সুপার হাসপাতালে যোগদান করেননি, তা-ই নয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীও সুপার হাসপাতালে যোগ দেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রয়োজন ছাড়াই অনেকে প্রশিক্ষণ নিতে কোরিয়ায় যান। একজন সহকারী কন্ট্রোলার তো হোটেলের বাইরে গিয়ে নারী সহকর্মীর সঙ্গে ফুর্তি করার সময় ধরা পড়েন। বিষয়টি ই-মেইলে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এজন্য তদন্ত কমিটিও হয়। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের আরেকজন সহকারী পরিচালক কসমেটিকসের দোকানে চুরি করে ধরা পড়েন। তিনি দুবার চুরি করে পার পেলেও তৃতীয়বার ধরা পড়েন। তাকে কোরিয়ান পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি ই-মেইলে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে জানালে তাকে সাসপেন্ড করা হয়। পরে সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ তার চাকরি ফিরিয়ে দেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুপার স্পেশালাইজড প্রকল্পের শর্তের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের বিষয়টি ছিল। প্রকল্পের টাকায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণে কিছু অপ্রয়োজনীয় লোকও অংশ নিয়েছে। যাদের প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসছে না।’
বিএসএমএমইউর তথ্যমতে, ২০২১-২২ সালে পাঁচটি গ্রুপে বিএসএমএমইউর বিভিন্ন বিভাগের ৫২ জন চিকিৎসক দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিতে যান। তারা ২ থেকে ৪ মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে দৈনিক ৭৫ ডলার প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়া হয়। এ হিসাবে যারা ২ মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা একেকজন সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আর যারা ৪ মাস ছিলেন তারা ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। তাদের যাতায়াত, হোটেল ভাড়া, খাওয়া প্রভৃতি খরচ মিলিয়ে আরও কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক সুপার স্পেশালাইজড যোগ দিয়েছেন, অবশিষ্ট ৪৬ জন চিকিৎসক যোগ দেননি।
আরও
শুধু যে চিকিৎসকরাই সুপার হাসপাতালে যোগদান করেননি, তা-ই নয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীও সুপার হাসপাতালে যোগ দেননি। তাদের যারা ২ মাসের প্রশিক্ষণ নেন, তারা প্রতিদিন ৬০ ডলার ভাতা পেয়েছেন। এ হিসাবে প্রতিজন ২ মাসে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ভাতা পেয়েছেন। তাদেরও আসা-যাওয়া, হোটেল ভাড়া, খাওয়া খরচ প্রভৃতি মিলিয়ে আরও কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
বিএসএমএমইউর তথ্য অনুযায়ী, কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন ১৫৭ জন। ৫২ চিকিৎসক, ২৯ কর্মকর্তা, ৫৩ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ২৩ জন টেকনিশিয়ান। প্রশিক্ষণ শেষে ৬ চিকিৎসক, ৫ কর্মকর্তা, ৫০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ১১ জন টেকনিশিয়ানসহ ৭২ জন যোগ দিয়েছেন। ৮৫ জন যোগ দেননি। তাদের কেউ বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে, কেউ মোটা টাকা ভাতা পাওয়ার আশায় তদবির করে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুপার স্পেশালাইজড প্রকল্পের শর্তের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণের বিষয়টি ছিল। প্রকল্পের টাকায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণে কিছু অপ্রয়োজনীয় লোকও অংশ নিয়েছে। যাদের প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসছে না।’
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একনেকে বিএসএমএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার হাসপাতালটি বাংলাদেশ সরকার, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ও বিএসএমএমইউর অর্থে নির্মিত।









