কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক দুবাইপ্রবাসীর বিরুদ্ধে মুঠোফোনে একাধিক বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আজ রোববার অভিযুক্তের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার, স্বজন ও বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। প্রবাসীর এমন অভিনব প্রতারণার খবরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্ত প্রবাসীর ছবিসহ বিভিন্ন পোস্টার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা ‘বর তুমি কার?’ স্লোগান দিয়ে প্রতারণার শিকার তরুণীদের অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুঠোফোনে বিয়ের নামে এ ধরনের প্রতারণা ও একাধিক সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়লই জকরিয়া টারির মৃত আবেদ আলী দর্জির ছেলে বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাইপ্রবাসী। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে থাকা অবস্থায় একই গ্রামের জয়নাল দর্জির মেয়ে ও স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জিম খাতুনকে মুঠোফোনে বিয়ে করেন তিনি। কাজী অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিবন্ধন না হলেও দুই পরিবারের উপস্থিতিতে ভিডিও কলের মাধ্যমে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং দেশে ফিরে ওই প্রবাসী সংসার শুরুর আশ্বাসও দিয়েছিলেন।
আরও
তবে সম্প্রতি ওই একই প্রবাসীর বিরুদ্ধে আরও একটি বিয়ের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। গ্রামবাসীর দাবি, বাবু মিয়া বিদেশে থাকা অবস্থায় পাশের নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও মুঠোফোনে একইভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। সার্বিক বিষয়ে বড়লই গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মাহবুল হক খন্দকার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দুঃখজনক। মুঠোফোনে বিয়ের নামে একাধিক সম্পর্ক গড়ার এই অভিযোগ সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।








