পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এক যুগ আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফেনীর পরশুরাম উপজেলার যুবক শামসুল করিম (৩৮)। সেখানে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুর দীর্ঘ ১৮ দিন পর গতকাল শুক্রবার একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছায়। পরে বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর কফিন গ্রহণ করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
নিহত শামসুল করিম পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব ঘোচাতে ২০১৪ সালে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে তায়েফ শহরের দিরার একটি খামারে (মাজরা) কাজ করতেন তিনি। গত ২২ মার্চ নিজ কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শামসুল। এ সময় সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ কফিনবন্দী করে দেশে আনা হয়।

আরও
শামসুল করিম ২০১২ সালে একই উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর গ্রামের রিনা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে মোহাম্মদ আরিফ (১৪) ও মো. আরাফাত (৬) নামের দুই ছেলে রয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের এমন নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী, সন্তানসহ স্বজনেরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী রিনা আক্তার। তাঁদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতের স্বজন শফিকুর রহমান বলেন, দূতাবাসের মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ বুঝে নেওয়ার পর আজ স্থানীয় জগমোহনপুর গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে।











