নারায়ণগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে বোরহানউদ্দিন নামের এক প্রবাসীর গাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই প্রবাসীর মুঠোফোন, ল্যাপটপ, নগদ অর্থ, সোনা ও পাসপোর্টসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে ভোগান্তির বিষয় হলো, ডাকাতির ঘটনাস্থল কোন থানার সীমানায় পড়েছে, তা নির্ধারণ করতেই ভুক্তভোগীকে দুই থানায় ছোটাছুটি করতে হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার ভোরে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বোরহানউদ্দিন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পূর্ব পোল মোগড়া এলাকার বাসিন্দা নাসিরউদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, বিদেশ থেকে ফিরে শুক্রবার ভোরে একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন বোরহানউদ্দিন। এশিয়ান হাইওয়ে পার হওয়ার সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাঁচ-ছয়জনের একটি ডাকাত দল তাঁর গাড়ি থামিয়ে দেয়। এরপর ডাকাতেরা তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ, একটি আইফোন, ল্যাপটপ, ৯০ গ্রাম সোনা এবং দুটি পাসপোর্ট লুট করে পালিয়ে যায়।
আরও


সর্বস্বান্ত হয়ে বোরহানউদ্দিন আইনি সহায়তার জন্য প্রথমে সোনারগাঁ থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন। সেখানকার উপপরিদর্শক (এসআই) রিফাত তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং জানান যে জায়গাটি তাঁদের থানা সীমানায় নয়, বরং বন্দর থানা এলাকায় পড়েছে। এরপর বোরহানউদ্দিনকে বন্দর থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ বলেন, ‘ডাকাতির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জায়গাটি সোনারগাঁ নয়, বন্দর থানাধীন মদনপুর বাজার এলাকার মধ্যে পড়েছে। এরপর ভুক্তভোগীকে বন্দর থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয় এবং আমি নিজেও বন্দরের ওসিকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
অন্যদিকে, বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ছবি দেখে মনে হয়েছে, ঘটনাস্থলটি বন্দর থানার সীমানায় নয়। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমাদের টিমকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল যে থানার সীমানাতেই হোক না কেন, ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দিতে কোনো কার্পণ্য করা হবে না। প্রয়োজনে দুই থানা মিলেই অপরাধীদের ধরতে যৌথ অভিযান চালাবে।’











