সর্বশেষ

নিহত প্রবাসীর লাশের দাম ৫০ হাজার টাকা

66339fee44bee171465931066339fee44bfeProbashir city Popup 19 03

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত সাতজন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী। এর মধ্যে তিন দফায় চারজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও বাকিদের মরদেহ এখনো সংশ্লিষ্ট দেশের হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। সর্বশেষ গত সোমবার সকালে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নিহত সাত প্রবাসীর মধ্যে চারজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং একজনের মরদেহ পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিহত এই প্রবাসীদের পরিবারকে দেওয়া সরকারি অনুদানের এই অঙ্ক নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন অন্য প্রবাসীরা। নিহতদের স্বজন ও সহকর্মীদের দাবি, যুদ্ধের মতো চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্রাণ হারানো একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারের জন্য এই সহায়তা একেবারেই অপ্রতুল। এক কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশি জানান, তাৎক্ষণিক কিছু নগদ সহায়তার চেয়ে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা এখন বেশি জরুরি। বিকল্প কর্মসংস্থান বা আয়ের কোনো টেকসই সুযোগ সৃষ্টি না হলে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এই পরিবারগুলো অচিরেই চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।

প্রবাসীদের এই ক্ষোভের বিষয়ে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. এ টি এম মাহবুব উল করিম জানান, প্রচলিত নিয়মে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করেই এবার ব্যতিক্রম হিসেবে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজস্ব শ্রম আইন বা বিমার অধীনে নিহত কর্মীর কোনো ক্ষতিপূরণ বা প্রাপ্য সুবিধা থাকলে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা আদায় করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এত কিছুর পরও প্রবাসীদের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক ঘাটতির কথা সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এমন একটি সংকটময় ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করলেও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা বা রূপরেখা পৌঁছায়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দ্রুত সেবা প্রদান এবং সার্বিক সহায়তা কার্যক্রমে চরম সমন্বয়হীনতা দেখা দিচ্ছে, যা প্রবাসীদের উৎকণ্ঠাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03