মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে দেখা দেওয়া ফ্লাইট সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন ছুটিতে দেশে আসা বাহরাইনপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। একদিকে বাতিল হচ্ছে পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট, অন্যদিকে নতুন টিকিটের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় সময়মতো কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁরা। নির্ধারিত সময়ে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে এসব নিম্ন আয়ের প্রবাসীকর্মীর।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, ছুটি শেষে ফেরার টিকিট আগে থেকেই কাটা থাকলেও বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে টিকিট কাটতে গেলে গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ, যা সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুইদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা ও বাহরাইনের মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার কর্মী মো. মহিউদ্দিন জানান, চলতি মাসের ১২ তারিখ তাঁর ফেরার টিকিট ছিল। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় আটকে পড়ায় নতুন করে টিকিট কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই। একই এলাকার আরেক কর্মী আবু হাসান গত ১২ ফেব্রুয়ারি ছুটিতে দেশে আসেন। এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইটে ৩ এপ্রিল তাঁর ফেরার কথা থাকলেও সেটি বাতিল হয়ে যায়। সময়মতো কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি থাকবে কি না, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

আরও
ফ্লাইট সংকটের পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ নিয়েও প্রবাসীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দেশে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় এবং আয়রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে অনেকেই আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে নিয়োগকর্তা বিকল্প কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা তাঁদের। এ অবস্থায় প্রবাসে নিজেদের জীবিকা বাঁচাতে এবং চরম দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে বিশেষ ফ্লাইট চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন আটকে পড়া এই প্রবাসীরা।
সার্বিক বিষয়ে বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার জানান, আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তায় দূতাবাস সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, যাঁদের ‘ফ্লেক্সিবল’ বা লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (এলএমআরএ) ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, তাঁরা বাহরাইনে থাকা তাঁদের কোনো প্রতিনিধি বা আত্মীয়ের মাধ্যমে ভিসা নবায়নের আবেদন করতে পারবেন। আর যাঁরা কোম্পানি বা কন্ডিশনাল রেসিডেন্ট (সিআর) ভিসায় রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিজ নিজ স্পনসর বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া যেকোনো আইনি জটিলতা বা সহায়তার প্রয়োজন হলে দূতাবাসের শ্রম শাখায় যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।








