ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে গিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালির বদলে লাশ হতে হলো মাদারীপুরের যুবক জহুরুল ইসলামকে। লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় মানব পাচারকারী মাফিয়াদের নির্মম নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই দুঃসংবাদে জহুরুলের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দালালদের পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপন করেছেন। জহুরুলের স্ত্রী এবং দুটি শিশুকন্যা রয়েছে।
নিহতের স্বজনেরা জানান, দেশে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন জহুরুল। ভালো উপার্জনের আশায় পাঁচ মাস আগে তিনি পার্শ্ববর্তী ধুলুগ্রাম এলাকার মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য জাকির মাতুব্বরের প্রলোভনে পড়েন। ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ার পর প্রথমে তাঁকে সৌদি আরব এবং পরে সেখান থেকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর জহুরুলকে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বীর মোহন বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা তারেক মণ্ডলের একটি বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁর ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও দেশে পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র।

আরও
কথা ছিল, মুক্তিপণের টাকা পেলেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে জহুরুলকে ইতালি পাঠানো হবে। কিন্তু টাকার নেশায় মত্ত দালাল চক্র আরও মুক্তিপণের দাবিতে তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে এই নির্মম নির্যাতন সইতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জহুরুল। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। পাশাপাশি দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে জহুরুলের সঙ্গে যাওয়া একই উপজেলার মধ্য ধুলগ্রাম এলাকার ইমামুল সৈয়দ নামের আরেক যুবকও বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন।
জহুরুলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দালাল জাকিরের পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। জাকিরের প্রতিবেশী পারভীন নামের এক নারী জানান, গত রমজান মাসেই ওই পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়েছেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন যে জাকির অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম আজ মঙ্গলবার জানান, লিবিয়ায় যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ ও বিপজ্জনক পথে বিদেশ যাওয়ার এই প্রবণতা থেকে সবাইকে সরে আসারও আহ্বান জানান তিনি।










