লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে নৌকায় গ্রিসে যাওয়ার পথে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১১ জন তরুণ বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর এই হৃদয়বিদারক খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়েই এই করুণ পরিণতির শিকার হয়েছেন তাঁরা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার যুবকেরা রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মার্চ সন্ধ্যায় লিবিয়ার তোবরুক উপকূল থেকে ৪৮ জন যাত্রী নিয়ে একটি রাবার নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু মাঝপথে দিক হারিয়ে নৌকাটি প্রায় ছয় দিন ধরে উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় চরম খাবার ও পানীয় জলের সংকটে পড়ে নৌকার যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও অসহায়ত্বের শিকার হন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের লোমহর্ষক বর্ণনামতে, টানা কয়েক দিন অভুক্ত অবস্থায় থাকার পর অনাহার ও চরম শারীরিক দুর্বলতায় ২২ জনের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নৌকায় থাকা মানব পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো একে একে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রিস কোস্টগার্ড ইয়েরাপেত্রা উপকূল থেকে প্রায় ৫২ নটিক্যাল মাইল দূরে ভাসমান ওই বিপদগ্রস্ত নৌকার সন্ধান পায় এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজের সাহায্যে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে, যাদের দ্রুত বন্দরে নিয়ে চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার ও জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ জেলার বেশ কয়েকজন তরুণের মৃত্যুর প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতদের নাম-পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানিয়েছেন, এই তরুণেরা বৈধ পথে বিদেশে যাননি, তবে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অকালে এতগুলো তরুণের প্রাণহানিতে পুরো সুনামগঞ্জজুড়ে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।










