নোয়াখালীর সেনবাগে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিকের হামলায় দেলোয়ার হোসেন নামের এক সৌদিপ্রবাসী স্বামীর গোপনাঙ্গ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের মুন্সি ব্যাপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় স্বামীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে প্রেমিক সাইফুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাঁকে গণপিটুনি দিয়ে সেনবাগ থানা–পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আহত দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার প্রতিবেশী রাজমিস্ত্রি সাইফুলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে তাঁদের একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে দেলোয়ার দেশে ফিরে আসেন। গতকাল রাতে সাইফুল গোপনে তাঁদের বসতঘরে প্রবেশ করলে দেলোয়ার তাঁকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। এ সময় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে সাইফুল ওই প্রবাসীর গোপনাঙ্গে সজোরে আঘাত করেন।
পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সাইফুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেলোয়ারকে উদ্ধার করে প্রথমে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আরও
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন দেলোয়ারের স্ত্রী সুমি আক্তার। পূর্ববিরোধের জেরে সাইফুলের হামলায় তাঁর স্বামী আহত হয়েছেন দাবি করে তিনি তড়িঘড়ি করে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার ওই প্রবাসীর আহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত ব্যক্তির স্ত্রী পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার কথা উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তবে পরকীয়ার জেরে এই হামলা কি না, তা পুলিশের তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।










