ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছ থেকে স্পষ্ট ও সরাসরি নিন্দা প্রত্যাশা করছে তেহরান। আজ বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকার ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত বলেন, ওআইসি এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে—এমনটাই ইরানের কাম্য। তিনি বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ। তাই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যখন কোনো আগ্রাসী শক্তি হামলা চালায়, তখন এর সরাসরি নিন্দা জানানো বা প্রতিবাদ করা আমাদের প্রত্যাশার মধ্যে পড়ে।’
ইরান অন্য কোনো দেশ থেকে সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা চায় না উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, একটি মুসলিম দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মুসলিম দেশগুলোর সহানুভূতি ও নৈতিক সমর্থনই তাদের কাম্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তাদের ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত ড্রোন, মিসাইল এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সমরাস্ত্র মজুদ আছে। এ ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল।
আরও
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বিদেশি শক্তিগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করলেও দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনী শত্রুর যেকোনো পদক্ষেপ নস্যাৎ করে দিতে প্রস্তুত। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবে না এবং শত্রুপক্ষকে তাদের প্রতিটি আঘাতের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইতিমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানি বা বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না। সবার নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সমানভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।











