মালয়েশিয়ায় পাচারকারী চক্রের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কাজলের মরদেহ দীর্ঘ এক মাস পর তার নিজ গ্রাম কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি এসে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার বিকেলে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জীবিকার সন্ধানে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমানো এই তরুণের নিথর দেহ ফিরে আসায় পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুই মাস আগে স্থানীয় দালাল শফির প্রলোভনে পড়ে আরও দুই তরুণের সাথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন কাজল। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের আটকে রেখে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং ফোনে নির্যাতনের আর্তনাদ শুনিয়ে টাকা আদায়ের চাপ দিতে থাকে। কাজলের পরিবার জমি বন্ধক ও গবাদিপশু বিক্রি করে চার লাখ ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে দালালের হাতে তুলে দিলেও সেই অর্থ নির্যাতনকারীদের কাছে না পৌঁছে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে একপর্যায়ে মালয়েশিয়াতেই প্রাণ হারান আব্দুল্লাহ কাজল। নিহতের বড় ভাই জানান, ফোনে কান্নাকাটি করে কাজল বারবার তাকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ও স্বজনেরা দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। বর্তমানে কাজলের এক সহযাত্রী মালয়েশিয়ার কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং অন্যজন বিপুল অঙ্কের বিনিময়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
আরও
কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, মানবপাচার ও মৃত্যুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, শুধু দালাল গ্রেপ্তার নয়, বরং উপকূলীয় এলাকায় সক্রিয় আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে সমন্বিত উদ্যোগ এবং বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সরকারি নজরদারি বাড়ানো জরুরি।











