শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে ঢাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তাঁরই এক দেবর (স্বামীর চাচাতো ভাই)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রগুলোর ধারণা, তাঁদের দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা গোপন প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই এই মর্মান্তিক জোড়া আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভেদরগঞ্জের মধ্য মহিষার এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী ফয়সাল মল্লিকের স্ত্রী এলিনা আক্তার। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুজনের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলিনা আক্তারের স্বামী ফয়সাল মল্লিকের চাচাতো ভাই মিল্টন মল্লিক ঢাকায় একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় নিজ কর্মস্থলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আজ সকালে গ্রামের বাড়ি মধ্য মহিষার এলাকায় ভাবি এলিনা আক্তারও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মিল্টন মল্লিক প্রায় সাত মাস আগে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে ঢাকায় কাজে যোগ দেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়াপ্রবাসী ভাই ফয়সাল মল্লিকের স্ত্রী এলিনা আক্তারের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যেই চরম উত্তেজনা ও পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। তাঁদের নিকটাত্মীয় আবদুল খালেক মাদবর জানান, দুজনের এই সম্পর্কের বিষয়টি পরিবার আগে থেকেই অবগত ছিল এবং এটি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই সমস্যা চলছিল।
আরও
এদিকে মিল্টন মল্লিকের লাশ ঢাকা থেকে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় একজনকে হাসপাতালে আনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। আত্মহত্যার এই ঘটনাগুলোর পেছনের প্রকৃত কারণ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।











