সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও দুই বোনকে হারিয়ে একা দেশে ফিরেছে ১০ বছরের শিশু ফাইজা আক্তার। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে ফিরলেও শিশুটি এখনো জানে না যে তার পরিবারের আর কোনো সদস্য বেঁচে নেই। সে কেবল জানে, তার মা-বাবা ও দুই বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং সুস্থ হয়ে তাঁরা সবাই বাড়িতে ফিরবেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে আবারও একসঙ্গে ঈদ করার এবং বাবার সঙ্গে ঈদের মেলায় যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়িতে অপেক্ষা করছে শিশু ফাইজা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত মিজানুর রহমান মিজান (৪০) সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), বড় মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩), মেজ মেয়ে ফাইজা ও দেড় বছর বয়সী ছোট মেয়ে সুবহা আক্তারকে নিয়ে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে যান। ওমরাহ শেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেদ্দা থেকে ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমানসহ তাঁর স্ত্রী এবং দুই মেয়ে মেহের ও সুবহা নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবরও প্রাণ হারান। পুরো পরিবারের মধ্যে কেবল ফাইজা এবং অন্য একজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।
আরও
দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত ফাইজাকে জেদ্দা শহরের কিংস ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সে রামগঞ্জের নলচরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। ফাইজা স্থানীয় টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বাড়িতে ফিরে সে পরিবারের লোকজনকে জানিয়েছে, সুস্থ হয়ে মা-বাবা ফিরে এলে সে নতুন জামা পরে তাঁদের সঙ্গে ঈদের মেলায় যাবে এবং বোনদের নিয়ে অনেক আনন্দ করবে।
ফাইজার মামা তানভীর হোসেন জানান, শিশুটি এখনো তার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর জানে না। তাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা সত্যটি গোপন রেখেছেন। বর্তমানে নিহতদের মরদেহগুলো জেদ্দার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। একদিকে মা-বাবা ও বোনদের হারিয়ে বাড়িতে ফাইজাকে দেখার জন্য প্রতিবেশীদের ভিড় বাড়ছে, অন্যদিকে স্বজনদের কান্নায় নলচরা গ্রামের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।











