স্ত্রী ও তিন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় বুক বেঁধে প্রায় সাত বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন মিয়া। বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে নিয়মিত দেশে টাকা পাঠাতেন তিনি। সেই টাকায় চলত সংসার, সন্তানদের পড়াশোনা, এমনকি তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি বসতবাড়িও। কিন্তু এত কঠোর পরিশ্রমের পরও শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয় এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ভেঙে গেছে এই প্রবাসীর ১৮ বছরের সাজানো সংসার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন মিয়া বিদেশে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর তাঁর ছোট ভাইকে প্রবাসে পাঠাতে একটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয়। সেই ঋণের কিস্তি আদায়ের সুবাদে হুমায়ুন মিয়ার বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন ওই এনজিওর কর্মী জামাল। অভিযোগ উঠেছে, এ সুযোগেই হুমায়ুনের স্ত্রীর সঙ্গে ওই এনজিও কর্মীর পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তীব্র কলহ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক সম্পন্ন হয়। প্রবাসী হুমায়ুনের আক্ষেপ, প্রবাসজীবনের দীর্ঘ সাত বছরের কষ্টার্জিত উপার্জনের সব অর্থই তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন। সংসার ভেঙে যাওয়ার পর বর্তমানে তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবারের অভিযোগ, তালাক সম্পন্ন হওয়ার পরও সাবেক স্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তা দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনধিকার প্রবেশ, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এতে হুমায়ুন মিয়ার বৃদ্ধ মা মোছা. মমতা বেগমসহ পুরো পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জীবনের নিরাপত্তা ও বাড়ি রক্ষার্থে হুমায়ুন মিয়ার মা মমতা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শালিসকারকেরা জানান, বিষয়টি সামাজিকভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।
আরও
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক স্ত্রী শারমিন আক্তার গণমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তিনি দাবি করেন, শাশুড়ি তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন এবং তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত এনজিও কর্মী জামাল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সমিতির সদস্য হওয়ায় কিস্তি আদায়ের সুবাদে শারমিন আক্তারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হতো, এর বাইরে কোনো সম্পর্ক নেই। দুজনের একসঙ্গে থাকা ছবি প্রসঙ্গে তিনি সেগুলোকে ‘এডিটেড’ বা সম্পাদিত বলে দাবি করেন। তবে সংশ্লিষ্ট এনজিও এসএসএসের নোয়াগাঁও শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠার পরপরই কর্মী জামালকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিজয়নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাফিজ জানিয়েছেন, পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।










