যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পাশ কাটিয়ে বিশ্বের সব দেশের আমদানি পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানোর কথা বললেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের এই নতুন ও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথা জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশটির সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শুল্কনীতি বাতিল করে দেওয়ার মাত্র এক দিনের মাথায় তাঁর প্রশাসন এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। এর আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন, বিশ্বজুড়ে একতরফাভাবে জরুরি শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং এ ধরনের পদক্ষেপে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন নেওয়া উচিত ছিল। শনিবার আদালতের এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে বাতিল হওয়া শুল্কের পরিবর্তে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক বসানো হবে। কিন্তু এরপর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শুল্কের হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি ঘোষণা দিচ্ছেন যে বিশ্বের সব দেশের ওপর আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আজ থেকেই বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হলো। মার্কিন এই প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছিল এবং তিনি ক্ষমতায় আসার আগপর্যন্ত এর কোনো বিচার হয়নি। এখন থেকে আইন মেনেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর এই বাড়তি কর কার্যকর হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
আরও
যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে এই ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এটিকে আইনি বৈধতা দিয়ে স্থায়ী করার জন্য তাঁর প্রশাসন অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। উল্লেখ্য, গত বছর আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইনের (আইইইপিএ) অধীনে বিশ্বের সব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও নতুন করে এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা।












