সৌদি আরবে দীর্ঘ ১৭ মাস হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রিয়জনদের কাছে ফেরার আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে প্রবাসী মহিউদ্দিনের জীবনে। রোববার বিকেলে মাগুরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ঝিনাইদহের ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের এই বাসিন্দাকে। বর্তমানে তিনি মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বাসে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে পাসপোর্ট, নগদ লক্ষাধিক টাকা এবং বিদেশ থেকে আনা মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় মহিউদ্দিন দেশে ফেরেন। পরদিন সকালে তিনি ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। যাত্রাপথে তার পাশের সিটে বসা এক ব্যক্তি নিজেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী পরিচয় দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আলাপচারিতার ফাঁকে সুযোগ বুঝে ওই ব্যক্তি তাকে অচেতন করে ফেলে। বিকেল ৩টার দিকে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার তাকে সিটে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে ততক্ষণে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি মধুখালী এলাকায় ব্যাগপত্র নিয়ে নেমে সটকে পড়েন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুমি জানান, দুপুরে ফোন দিলেও স্বামী রিসিভ না করায় তিনি ভেবেছিলেন ঘুমের কারণে এমনটি হচ্ছে। কিন্তু বিকেলে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন মহিউদ্দিনের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, বিষয়টি তারা অবগত আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।









