বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলটদের দায়িত্বহীনতা এবং অপারেশনস ম্যানুয়াল না মানার কারণে মাঝ আকাশে অসুস্থ হয়ে যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মান অনুযায়ী, ফ্লাইটে কোনো যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে নিকটস্থ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা বাধ্যতামূলক হলেও প্রায়ই তা মানছেন না বৈমানিকরা।

সবশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর সিলেট থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইটে তাজাম্মুল আলী নামে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে নিকটস্থ লাহোর বিমানবন্দরে অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু পাইলট ক্যাপ্টেন আলেয়া মান্নান সেই নির্দেশ অমান্য করে ফ্লাইটটি নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।
আরও
এতে বাড়তি তিন ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হওয়ায় পথেই ওই যাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ক্যাপ্টেন এনামুল হককে, যার নিজের বিরুদ্ধেই ২০২৩ সালে একই ধরনের অবহেলার কারণে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রভাবশালী আত্মীয়তার সুবাদে তিনি আগের যাত্রীর মৃত্যুর দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।
বিমানের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যম জানায়, এমন ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি জেদ্দা-ঢাকা ফ্লাইটে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ককপিট ছেড়ে বিশ্রামে চলে যান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ সত্ত্বেও জরুরি অবতরণ না করে সরাসরি ঢাকায় চলে আসেন। একই বছরের নভেম্বরে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটেও অসুস্থ যাত্রীকে নিয়ে নিকটস্থ কোথাও না নেমে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পর হিথ্রোতে অবতরণ করেন পাইলট। উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকায় বা লন্ডনে পৌঁছানোর আগেই যাত্রীদের মৃত্যু ঘটে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব মৃত্যু স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক অবহেলা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।










