একটু সচ্ছল জীবনের আশায় জমি-জমা বিক্রি করে চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার বাসিন্দা মো. ফারুক (৪৫)। তবে সেখানে গিয়ে কাজ পাওয়ার বদলে দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ফারুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুকের স্ত্রী কাউসার আক্তার অভিযোগ করেন, ভালো চাকরি ও ‘ফ্রি ভিসা’র আশ্বাস দিয়ে চট্টগ্রামের একটি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের মালিক ইফতেকার নামে এক ব্যক্তি ফারুকের কাছ থেকে চার লাখ টাকা আদায় করেন। দুই মাস আগে সৌদি আরবে পৌঁছালেও এখন পর্যন্ত তাকে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে আকামা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটিও দেওয়া হয়নি। বর্তমানে তিনি সেখানে কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
কাউসার আক্তার আরও বলেন, কাজের দাবিতে প্রতিবাদ জানালে দালাল চক্র উল্টো ফারুককে চুরির মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে। এর ফলে পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে।
আরও
ফারুকের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রবাসে পাঠাতে গিয়ে জমি বিক্রি ও ঋণ করে টাকা জোগাড় করা হয়েছিল। এখন সেই সব শেষ হয়ে গেছে। ফারুক ফোনে জানাচ্ছেন, তাকে সাজানো মামলায় জেলে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তারা সরকারের কাছে ন্যায়বিচার ও ফারুকের মুক্তি কামনা করেন।
এদিকে একই দালালের প্রতারণার শিকার পাশের এলাকার এক নারীও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু না পাঠিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত দালালকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। পরিবারটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপে ফারুককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জোর আবেদন জানিয়েছে।











