কুয়েতের আহমেদী জেলায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার প্রবাসী শ্রমিক জামাল মাতুব্বর (৩৯)। গত ১ জানুয়ারি তিনি যে ফার্ম হাউজে কর্মরত ছিলেন, সেখানে আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়। নিহত জামাল মাতুব্বর সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং দুই কন্যাসন্তানের জনক।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কুয়েত থেকে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরদিন বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। প্রবাসী জামালের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে জীবিকার তাগিদে কুয়েতে পাড়ি জমান জামাল মাতুব্বর। তিন বছর আগে একবার দেশে এসেছিলেন ছুটিতে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার ফেরাটা হয়েছে মরদেহ হয়ে। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও
নিহতের স্ত্রী কাকোলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, অর্থের লোভেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকারীরা তার পরিচিত মানুষ হতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন। তিনি কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে কুয়েতপ্রবাসী ও নিহতের পরিচিত মুন্নু ফকির জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় এবং পরে কুয়েত পুলিশের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। এলাকাবাসী ও স্বজনরা এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।











