নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বাবরুকপুর গ্রামে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলাম লিটনের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ফলদ গাছ কেটে ফেলা, বিদ্যুৎ-পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী রণি আক্তার মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সোনারগাঁও থানা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বাড়ি নির্মাণের শুরু থেকেই এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। একাধিকবার ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদাবাজরা মসজিদের তহবিলে দেওয়ার কথা বলে আগে ৭০ হাজার টাকা নিলেও পরে জানা যায় ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে বাড়ির কাজ শেষে মিলাদ মাহফিলের সময়ও তাদের চাপের মুখে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি রাতে মাদক সেবনের পর সংঘবদ্ধ হয়ে তারা আবারও বাড়িতে এসে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
আরও
চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সন্ত্রাসীরা উত্তেজিত হয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির সব ফলদ গাছ কেটে ফেলে, বিদ্যুতের তার খুলে নিয়ে যায় এবং পানি ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। একই সঙ্গে পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে, অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২১ ডিসেম্বর রাতে ওই বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার সঙ্গেও একই চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে পরিবারটি সন্দেহ করছে। বিষয়টি জানার পর নারায়ণগঞ্জ খ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহমেদ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোনারগাঁও থানার ওসি মহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।









