বিদেশে পালিয়ে থাকা হত্যা মামলার এক আসামিকে দেশে ফেরার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার মধ্যরাতের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ২ নং গোপালপুর ইউনিয়নের কোটরা মহব্বতপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে মো. আবদুল আহাদ (৫৫)।
পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয় সূত্র জানায়, বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে আসামির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে একাধিকবার অভিযান পরিচালনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ডিএমপির বিমানবন্দর থানা পুলিশ সহায়তা করে।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জের মবুল্যাপুর কালভার্টের সামনে পূর্বশত্রুতার জেরে আবদুল আহাদ ও তার সহযোগীরা ভিকটিম আবদুল লতিফ মিন্টুকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে কোটরা মহব্বতপুর এলাকায় নিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পুনরায় আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় জনতা গুরুতর অবস্থায় ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় গ্রাম পুলিশ মো. বেলাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
আরও
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, ঘটনার পর ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আসামি আবদুল আহাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পালিয়ে যান। প্রায় দুই বছর পর দেশে ফেরার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত দীর্ঘদিন নিরবচ্ছিন্ন তদন্তের মাধ্যমে মামলার অন্যতম সক্রিয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানান, আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।











