চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ইমামবাড়ি স্টেশন ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনির্ধারিতভাবে থেমে যায়। সোমবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে স্টেশন ত্যাগের প্রায় ১০০ গজ পর ট্রেনটি হঠাৎ থেমে দাঁড়ায়। কিছু মুহূর্ত পর দেখা যায়, দৌড়ে আসা এক মা–মেয়ে ট্রেনের সামনের বগিতে ওঠেন। পরে আবার ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রায় এক মিনিটের অনাকাঙ্ক্ষিত যাত্রাবিরতির সৃষ্টি করে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, বগিনামের ‘ঙ’ কোচে ওঠা ওই দুই নারী কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের নেমতাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। মেয়েকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। মাঝবয়সী আলেয়া বেগম জানান, তারা সময় মেনে স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হলেও দূর থেকে দেখতে পান ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। তখন বাধ্য হয়ে মেয়েকে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন এবং হাত নেড়ে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেন।
আলেয়া বেগম বলেন, নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি ইশারা করে চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মানবিক কারণে চালক ট্রেন থামানোয় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও
ঘটনাটি নিশ্চিত করে ট্রেনচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, স্টেশন ছাড়ার পর দুই নারীকে দৌড়ে আসতে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের হাতের ইশারা এবং জরুরি প্রয়োজনের কথা বুঝতে পেরে ট্রেনটি তাৎক্ষণিক থামানো সম্ভব হয়।
মানবিক এই উদ্যোগে ট্রেনচালকের দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার প্রশংসা করেছেন উপস্থিত যাত্রীরা। অনেকেই বলেন, জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের প্রতি এমন সহানুভূতি রেলসেবাকে আরও কাছাকাছি এনে দেয়।









