গ্রিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুবকদের লিবিয়ায় পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ নজির হোসেনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। নজিরের বিরুদ্ধে মানবপাচারের দুটি মামলা সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সর্বশেষ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানায় গত ৪ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ করা হয়, চক্রটির অন্যতম সদস্য গ্রিসপ্রবাসী শরীফ উদ্দিন দেশে এসে গ্রিসে চাকরির আশ্বাস দেন। জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকার চুক্তির ভিত্তিতে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও অগ্রিম টাকা নিয়ে শরীফ উদ্দিন তাদের দুবাই-মিসর হয়ে লিবিয়ায় পাঠান। সেখানে পৌঁছে চক্রের সদস্যরা তাদের অস্ত্রধারী মাফিয়াদের হাতে তুলে দেয়। এরপর ডলার-ইউরো ছিনিয়ে নিয়ে আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরিবারগুলো নজিরের মাধ্যমেই মুক্তিপণের টাকা পরিশোধে বাধ্য হয়। দুই পরিবারের কাছ থেকে মোট ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায়ের পরও ভুক্তভোগীদের মুক্তি নিশ্চিত না করে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪৫ দিন কারাবন্দী থাকার পর আইওএমের সহায়তায় তারা দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
আরও
সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে নজির স্বীকার করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীদের ইউরোপ নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠানো এবং মুক্তিপণ আদায়ের কাজে জড়িত ছিলেন তিনি। তার চক্রটি এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ জনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৯ জন আইওএমের সহায়তায় দেশে ফিরলেও বাকিরা এখনো লিবিয়ার বিভিন্ন মাফিয়ার হাতে আটক রয়েছেন।
এ ছাড়া ডেমরা থানায় মানবপাচার আইনে দায়ের হওয়া অপর একটি মামলাতেও নজিরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায়ও ভুক্তভোগীকে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং পরবর্তীতে মরুভূমিতে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নজির গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক রুট ও অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে সিআইডি আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছে।











