কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে আবারও সাগরপথে মানবপাচারের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিমানে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্র ২২ জনকে জিম্মি করে ট্রলারে করে পাচারের চেষ্টা করছিল। তবে সাগরে যাত্রাকালে একটি ডাকাতদল ট্রলারে হামলা চালায়। প্রাণভয়ে ট্রলারের মাঝি দ্রুত তীরে ফিরে এলে বিজিবি অভিযান চালিয়ে সাতজনকে উদ্ধার করে এবং মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শিশু পার্ক সংলগ্ন সমুদ্রসৈকত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবির হাতে আটক দুই দালাল হলেন—টেকনাফের পুরাতন পল্লানপাড়ার মো. ইসমাইল এবং কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. আলম। উদ্ধার ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে দালালরা তাদের বিমানযোগে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জিম্মি করে রাখে। সর্বশেষ চট্টগ্রামে ফ্লাইটের কথা বলে ডেকে এনে আবার টেকনাফে সরিয়ে আনা হয়। সেখানে একটি ঝুপড়ি কক্ষে আটকে রেখে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরে জোরপূর্বক ট্রলারে তুলে সাগরপথে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া নারায়ণগঞ্জের আবু তাহের জানান, এক বছর আগে দালালের কাছে টাকা দেওয়ার পর বারবার কালক্ষেপণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানোর কথা বলে টেকনাফে এনে আটকে রাখা হয়। ট্রলারে ওঠানোর পর মাঝসমুদ্রে ডাকাতদের হামলার মুখে পড়েন তারা। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান উখিয়ার যুবক তাওহিদ। তার ভাষ্য, মোট ২২ জন ট্রলারে ছিলেন এবং সমুদ্রে হামলার পর আতঙ্কে তীরে উঠে সবাই ছড়িয়ে পড়েন।
আরও
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান ব্রিফিংয়ে জানান, সাগরপথে পাচারের গোপন তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই মানবপাচারকারীকে আটক এবং সাতজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। আটক দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।









