চলতি বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৮২ জন বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হয়েছে। আগের বছরেও প্রায় একই সংখ্যক শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন; ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩ লাখের বেশি।
বিএমইটির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকে মোট ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। রেমিট্যান্স আয়ের ক্ষেত্রেও দেশের অবস্থান সন্তোষজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১৩.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অভিবাসী শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মালয়েশিয়ার মতো কিছু প্রচলিত শ্রমবাজারে চাহিদা কমলেও নতুন বাজার সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের স্থিতিশীল চাহিদা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সার্বিক প্রবাহকে শক্তিশালী রেখেছে। সৌদি আরবেই গত ১১ মাসে ৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছেন; সিঙ্গাপুর, কাতারসহ অন্যান্য দেশেও চাহিদা অব্যাহত রয়েছে।
আরও
রেমিট্যান্স বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডলারের সরকারি ও বাজারমূল্যের ব্যবধান কমানো, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং বৈধ পথে প্রণোদনা বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ গতিশীল হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধিই রেমিট্যান্স বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
সরকার জানায়, প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার, সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাশিয়া, ব্রুনাই, পূর্ব ইউরোপসহ নতুন গন্তব্যে শ্রমবাজার খোলা, বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, রাজমিস্ত্রি, ওয়েল্ডিংসহ নানা দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনভিত্তিক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।









