চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের আকবরপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুরুল আলম (৩৮) সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরের মাহাইল এলাকায় মাইক্রোবাস চালিয়ে কাপড় সরবরাহ শেষে বাসায় ফেরার পথে একটি মালবাহী লরির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আর্থিক টানাপোড়নের কারণে মাধ্যমিক পাসের পরই জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব পাড়ি জমান নুরুল আলম। প্রথমে সেলাইয়ের কাজ শিখে প্রায় এক দশক চাকরি করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে আট বছর আগে মাহাইল এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন এবং পরিবারের দায়িত্বও তুলে নেন নিজের কাঁধে। ছোট ভাইকে প্রবাসে এনে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেন এবং চলতি বছর বোনের বিয়েও আয়োজন করেন।

আরও
দুর্ঘটনার মাত্র ১১ দিন আগে তাঁর মা ও খালাকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব নিয়ে যান নুরুল আলম। ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও মায়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। পরিবার জানায়, সন্তানদের জন্য এবং মায়ের ইচ্ছাপূরণে তিনি সর্বদা আত্মত্যাগী ছিলেন। রমজানে দেশে ফিরে অনাগত সন্তানকে দেখবেন—এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নওরিন আক্তার ও তিন শিশু সন্তান এখনো জানে না যে তাদের অভিভাবক আর নেই।
নিহতের তিন ছেলে—১১ বছর বয়সী নওশাদ আবরার, ৬ বছর বয়সী নওয়াজ আববার ও ৪ বছর বয়সী নাওহাজ আবরার—বাড়ির আঙিনায় খেলছিল। বাবা আর নেই—এই নিষ্ঠুর সত্যটি এখনো তাদের জানানো হয়নি। বড় ছেলে নওশাদ জানায়, দুর্ঘটনার আগের রাতে বাবার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল, যেখানে বাবা তাকে ভালোভাবে পড়াশোনা করার নির্দেশ দেন এবং ভালো ফল করলে ল্যাপটপ কেনার প্রতিশ্রুতি দেন।
নিহতের বাবা সালে আহমদ ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কাগজপত্র প্রস্তুত করছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ছেলের লাশ একবার হলেও দেখতে চান। পরিবারের সদস্যেরা বলছেন, নুরুল আলম নিজের জন্য কোনো স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেননি; পরিবার, সন্তান ও অভিভাবকদের জন্যই সব চেষ্টা ছিল তাঁর। আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।









