যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদন ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। বিভিন্ন অজুহাতে এসব ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে শুরু করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস (ইউএসসিআইএস)। গত তিন মাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্তত ১৫–২০ জনকে ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা জানান, বিশেষ করে যারা পাঁচ বছরের ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছিলেন, কিন্তু যাদের অ্যাসাইলাম আবেদন আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে—তাদের পারমিট সরাসরি বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ১৩ নভেম্বর ডাকযোগে ইউএসসিআইএস–এর এমন চিঠি পেয়েছেন এস্টোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সরোয়ার হোসেন। তিন বছর আগে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি অ্যাসাইলাম আবেদন করেন এবং পরে পাঁচ বছরের ওয়ার্ক পারমিট পান। তবে অ্যাসাইলাম আবেদন নাকচ হওয়ার পর আদালতেও আর স্বস্তি মেলেনি; শেষ পর্যন্ত বাতিলের নোটিশ হাতে পেয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার বাসিন্দা আরিফ হোসেনও সম্প্রতি একই ধরনের চিঠি পেয়েছেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে চার বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই প্রবাসীর সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের অনুমতি থাকলেও ইমিগ্রেশন চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি অনুমতি অতিক্রম করে কাজ করায় তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল হয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
আরও
ইমিগ্রেশন–সংশ্লিষ্ট পরামর্শকরা বলছেন, বর্তমান সময় অভিবাসীদের জন্য প্রতিকূল। অনেকেই স্টুডেন্ট ভিসায় এসে অ্যাসাইলাম আবেদন করেছিলেন, যা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে জটিল হয়ে পড়েছে। যদিও বাইডেন প্রশাসন আগের বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাসাইলাম মামলা অনুমোদন করেছিল, নতুন নীতির প্রভাবে এসব আবেদন এখন কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এক প্যারালিগ্যাল জানান, ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের চিঠি হাতে পেয়ে বহু মানুষ তার কাছে আসছেন আইনি পরামর্শ নিতে। তিনি বলেন, “এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।” যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে এসব চিঠি উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।









