ময়মনসিংহের নান্দাইলে দাম্পত্য সংকট ও স্বীকৃতি–সংক্রান্ত জটিলতায় এক নারীর মানবিক পরিস্থিতি আলোচনায় এসেছে। নরসিংদীর চিনিসপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া ঘোড়াদিয়া এলাকার বাসিন্দা রুমা আক্তার (৩৬) দুই সন্তান রেখে কর্মজীবনের প্রয়োজনে প্রায় দুই বছর আগে কুয়েতে যান। সেখানে হাসপাতাল সেবিকা হিসেবে কাজ করার সময় নান্দাইলের রাজগাতি ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর নবীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রবাসে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রুমা।
রুমার দাবি, বিয়ের পর প্রবাসে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা কিছুদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় নুর নবীর পরিবার বিয়ে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হলে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। পরে স্বামীর পরিবারের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে রুমা গত ২২ নভেম্বর দেশে ফিরে ২৭ নভেম্বর নান্দাইলের দক্ষিণ খয়রাটি গ্রামে শ্বশুরবাড়ির খোঁজ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউপি সদস্যের সহায়তায় তিনি প্রথমে শ্বশুর বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও পরিবার পক্ষ তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর শনিবার পুনরায় স্বীকৃতির দাবিতে তিনি স্বামীর বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
আরও
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, রুমা বিয়ের কাগজপত্রসহ পুরো বিষয়টি উপস্থাপন করলে তিনি তাকে শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যান, কিন্তু সেখানেও তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। তবে রুমার শ্বশুর হাবিবুর রহমান দাবি করেন, তার ছেলে যদি বিয়ে করে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়; বর্তমানে ছেলে দেশে নেই, তাই এই দাবি তিনি অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
নান্দাইল থানার সহকারী উপপরিদর্শক ঝুটন চন্দ্র সরকার জানান, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। নারীটিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। উপস্থিত হয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













