বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও ভিসা–প্রত্যাশীদের অভিজ্ঞতা বলছে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন বৃদ্ধি, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন জটিলতা এবং প্রতিবেশী ভারতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নেতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এর ফলেই বহু দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা নীতি কঠোর করেছে।
সম্প্রতি ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারী যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য, ভ্রমণ ইতিহাস ও পেশাগত পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ভিসা পাচ্ছেন না। একজন আবেদনকারী জানান, পর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালান্স দেখানো সত্ত্বেও তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। তার ধারণা, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে “দেশত্যাগ করে না ফেরার আশঙ্কা” দূতাবাসগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জঙ্গিবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রচারিত নেতিবাচক বার্তা ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ভারত যখন ভিসা বন্ধ করে দেয়, তখন বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের হাতে পাসপোর্ট চলে যাওয়ার মতো অনিয়মও বাংলাদেশি পাসপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আরও
অভিবাসন খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানবপাচার ও অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতার কারণে অনেক দেশ বাংলাদেশিদের প্রতি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রামের পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ট্যুরিস্ট বা মেডিকেল ভিসায় গিয়ে অনেকে উদ্দেশ্য পরিবর্তন করায় বাংলাদেশিদের সম্পর্কে আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক ধারণা গড়ে উঠেছে, যা সামগ্রিকভাবে ভিসা–প্রাপ্তিতে প্রভাব ফেলছে।
ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন অ্যাটাবের তথ্য অনুযায়ী, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার, ভিয়েতনাম, বাহারাইনসহ বহু দেশ বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া খুব সীমিত সংখ্যায় ভিসা দিচ্ছে এবং থাইল্যান্ড ৪৫ দিনেরও বেশি সময় নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো বাংলাদেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার একটি স্পষ্ট সংকেত, যা দূর করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ অপরিহার্য।










