লোভনীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কানাডায় পাঠানোর নাম করে যশোরের ঝিকরগাছায় দুই যুবকের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক দালাল দম্পতির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, চুক্তির টাকা নেওয়ার পর তাদের নেপালে নিয়ে ভুয়া ‘এম্বাসি অফিসে’ ইন্টারভিউ ও কাগজপত্রের নামে প্রতারণা করা হয় এবং শেষে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় জাল ভিসা। অনলাইনে যাচাই-বাছাইয়ের পর ভিসাটি ভুয়া প্রমাণিত হলে পুরো চক্র কুয়েত পালিয়ে যায়।
কালিয়ানী গ্রামের আবু সায়েমের ছেলে আলসাবা রাতুল ও হাবিবুর রহমানের ছেলে শাকিল হোসেন এই প্রতারণার শিকার। জমি বন্ধক, গরু-ছাগল বিক্রি ও সুদের টাকা নিয়ে তারা দালাল নাসির উদ্দিন আলতাফ ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে মোট ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে দুই পরিবারই নিঃস্ব হয়ে বিচার প্রত্যাশায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রথমবার নেপালে নিয়ে যাওয়া হলেও দ্বিতীয়বার সেখানে একটি হোটেলে দুই মাস আটকে রাখা হয়। এরপর বাড়িতে ফোন দিয়ে চুক্তির বাইরে আরও এক লাখ টাকা নেওয়া হয়। দালাল আলতাফ তাদের হাতে ভুয়া কানাডা ভিসা লাগানো পাসপোর্ট তুলে দিয়ে সেদিনই কুয়েতে পালিয়ে যায়। দেশে ফিরে অনলাইনে যাচাই করলে দেখা যায় ভিসা ও সিল—সবই জাল।
আরও
পরিবারের সদস্যরা জানান, এই প্রতারণার কারণে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আলসাবা রাতুলের বাবা বলেন, “ছেলের ভবিষ্যতের আশায় ঋণ করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন বছরে পাঁচ লাখ টাকা সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে, আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।” অন্যদিকে শাকিলের বাবা অভিযোগ করেন, আপন ফুফাতো ভাইয়ের আশ্বাসেই সব সম্পদ বিক্রি করেছিলেন, অথচ শেষ পর্যন্ত তিনিই সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়েছেন।
অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন আলতাফ দাবি করেন, ভিসা ভুয়া নয়—ভুক্তভোগীরা “বুঝতে পারেনি।” তবে ৩৮ লাখ টাকার কথা অস্বীকার করে তিনি জানান, “আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মতো নিয়েছি।” এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, “কানাডায় পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। মানব পাচার চক্র সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে—বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”











