নেত্রকোনা জেলার মেদনি ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে চাঁদা দাবির ঘটনায় এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী সাজিদা আক্তার (৩৩) এ ঘটনায় সেকান্দর আলীসহ আটজনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে মামলা করেছেন। গত ৩০ অক্টোবর ঘটনার পর ২ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়, যার তদন্ত এখনো চলমান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওয়াসিম কুমার দাস জানান, প্রাথমিক তদন্তে মারধর এবং বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর চিকিৎসা নথি সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত সেকান্দর আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সাজিদার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দিলে সরকারি বেরিবাঁধের জায়গা থেকে তাদের ঘরবাড়ি তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হয়। আপত্তি করায় গত ৩০ অক্টোবর সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গৃহবধূর ঘর ও দোকানে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাত লাখ টাকার মালামাল লুট হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে।
আরও
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়—গৃহবধূকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে ফেলে নির্মমভাবে পেটানো হচ্ছে এবং পরে খালে ফেলে আবারও হামলা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, লোহার রডের আঘাতে সাজিদার ডান হাত ভেঙে যায় এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বটি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয়। পরে তার ছেলে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে প্রাণ রক্ষা করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে কিছুজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলম মিয়া দাবি করেন, জমির দখল সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত, চাঁদা দাবির অভিযোগ মিথ্যা। অন্য অভিযুক্ত উজ্জ্বল মিয়া বলেন, সাজিদার পরিবার বেরিবাঁধের জায়গায় অনুমতির বাইরে দখল বাড়ানোর চেষ্টা করছিল। তবে গৃহবধূ সাজিদা আক্তারের দাবি—স্বামী বিদেশে থাকায় তাকে অসহায় ভেবে হামলা চালানো হয়েছে এবং চাঁদা না দেওয়া ও জায়গা দখলের অজুহাতে তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে।











