সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর সবচেয়ে বড় বাজারটি নতুন করে সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় গত তিন মাসে ভিসা থাকা সত্ত্বেও প্রায় এক লাখ শ্রমিক দেশ ছাড়তে পারেননি। শ্রমিকদের সময়মতো সৌদি পৌঁছাতে না পারলে দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স বাজারটি সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিএমইটির পুরোনো নীতিমালায় এক কোম্পানিতে ২৪ জন পর্যন্ত শ্রমিককে একক ভিসার আওতায় বিবেচনা করা হলেও, গত ৩০ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ ৫ জনকে একক ভিসার জন্য গণনা করা হচ্ছে। এর বেশি হলে শ্রমিকদেরকে সৌদি চেম্বার অব কমার্স থেকে সত্যায়ন এনে জমা দিতে হচ্ছে, এবং আগামী মাস থেকে এ সত্যায়ন নিতে হবে সৌদি দূতাবাস থেকেই। ফলে ভিসার তিন মাসের মেয়াদ থাকলেও অনেক শ্রমিক সময়মতো ছাড়পত্র পাচ্ছেন না।
আরও
ঢাকার বিএমইটি অফিসে দাঁড়িয়ে সিলেটের শ্রমিক মামুন মিয়া জানান, তিন মাসের ভিসা মেয়াদের দুই মাস ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। বাকিটুকু সময়ে ছাড়পত্র না পেলে ঋণের কিস্তি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতায় তিনি মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বেন। এমন পরিস্থিতি ভুক্তভোগী বহু শ্রমিকের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে—যারা জমি বন্ধক রেখে বা ঋণ করে বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মালিকদের অভিযোগ, ভিসা জারি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও শুধুমাত্র ছাড়পত্র জটিলতার কারণে অন্তত এক লাখ শ্রমিক সৌদি যেতে পারেননি। এদিকে ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবে অবকাঠামো নির্মাণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজনও বাড়ছে। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়লে অন্য দেশগুলো বাজার দখল করে নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার মনে করছেন, বহির্গমন জটিলতার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব রয়েছে। তার ভাষায়, গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যদিকে, এই বিষয়ে জানতে বিএমইটির মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।











