সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হস্তিমৃতা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেন (৩৮)। জীবিকার তাগিদে ২০২১ সালের মার্চে বৈধভাবে আমিরাত যান তিনি এবং আবুধাবিতে রুটির কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। তার উপার্জনে পরিবারের জীবনযাপন স্থিতিশীল ছিল। তবে ২৯ অক্টোবর মনিরের আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। প্রবাসীদের অর্থসাহায্যে ৫ নভেম্বর তার লাশ দেশে আনা হয় এবং দাফন সম্পন্ন হয়।
মনিরের পরিবার বলছে, বৈধ পথে বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠানো একজন শ্রমিকের লাশ দেশে আনতে সরকারি সহায়তা না পাওয়া দুঃখজনক। মৃতের স্ত্রী আফরোজা আক্তার রুজিনা অভিযোগ করেন, লাশ দেশে ফেরাতে দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। তিনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে এবং দুই শিশুকন্যার পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মারা যাওয়া অধিকাংশ বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে আনতে স্বজনেরা প্রবাসীদের কাছেই সাহায্য চান। অনেক পরিবারের অভিযোগ—দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে আসে না। ফলে অর্থের অভাবে অনেক লাশ বিদেশেই মাসের পর মাস মর্গে পড়ে থাকে, কখনো কখনো বেওয়ারিশ হিসেবেও দাফন করা হয়।
আরও
তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানায়, সরকার নিহত প্রবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড লাশ পরিবহন, দাফনসহ আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থাও করে থাকে। কিন্তু অনেক পরিবার নিয়ম-কানুন না জানার কারণে এসব সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী পরিবারের জন্য সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি দপ্তর জানায়, বিদেশে কেউ মারা গেলে পরিবার ১৬১৩৫–নম্বরে বা +৮৮০৯৬১০১০২০৩০–এ যোগাযোগ করলে লাশ ফেরত আনা এবং পরবর্তী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে দ্রুত সহায়তা সম্ভব। কর্মকর্তাদের দাবি, পরিবার আবেদন করলে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতাই করে থাকে।












