সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় ওমানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ রায়কে ওমানি সংবাদমাধ্যমগুলো “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের যুগান্তকারী ঘটনা” হিসেবে তুলে ধরেছে।
ওমানি সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যার নির্দেশনা প্রদান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলন দমন, সহিংসতার প্রতি সমর্থনসহ মোট পাঁচটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আলোচিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ছাত্রনেতা আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালত এলাকায় যে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখা যায়, তা নিয়েও প্রতিবেদনে বিস্তারিত বর্ণনা আছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রায় ঘোষণার সময় শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছিলেন এবং তাকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে অভিযোগপত্রে। তাদের বিরুদ্ধেও আদালত কঠোর শাস্তির আদেশ দিয়েছেন।
আরও
রায়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে—এ তথ্যও ওমানি গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে ওমানি বিশ্লেষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওমানি সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ঘোষিত এ রায় শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।










