ঢাকার নবাবগঞ্জে স্বামীর বিদেশ যাওয়ার খরচ জোগাতে চাপ এবং শারীরিক–মানসিক নির্যাতনের দায়ে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিশকুল গ্রামে ১০ মাসের কন্যাশিশুকে রেখে তিথি রায় (২২) নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দেন বলে জানা গেছে। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে পুনরায় যাওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন স্বামী সুশান্ত বাড়ৈ। এ অর্থ দিতে না পারায় তিথি নিয়মিত শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। ঘটনার আগের দিনও তাকে অপমান ও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অখিল রায় থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিথির স্বামী সুশান্ত বাড়ৈ (৩০), শ্বশুর যাবদ বাড়ৈ (৬৫), শাশুড়ি ভালোবাসা বাড়ৈ (৫৫) এবং পারিবারিক পরিচিত রজন্তি বিশ্বাসকে (২৮) আসামি করা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
আরও
মামলার এজাহার অনুসারে, দুই বছর আগে তিথি রায় ও সুশান্ত বাড়ৈয়ের বিয়ে হয়। সংসারে সিজা বাড়ৈ নামে ১০ মাসের এক কন্যা রয়েছে। বিয়ের পর সুশান্ত দুবাইয়ে প্রবাসী ছিলেন। দেশে ফিরে পুনরায় বিদেশ যেতে তিথির বাবার কাছ থেকে টাকা দাবি করেন তিনি। পরিবার আর্থিকভাবে অক্ষম হওয়ায় দাবি পূরণ না হওয়ায় তিথিকে বারবার নির্যাতন করা হতো। কয়েকবার তিথি বাবার বাড়িতেও চলে আসেন; তবে সংসার টিকিয়ে রাখতে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।










