সর্বশেষ

দুর্নীতি-জালিয়াতির শীর্ষে পাসপোর্ট অধিদপ্তর

Passport Department at the top of corruption and fraudCity ads Investment (1)

বিয়ের দুবছর পর জার্মনি প্রবাসী স্বামীর কাছে চলে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করতে অনলাইনে আবেদন করেন নাহিদা সুলতানা। পাসপোর্ট ফিও জমা দেন। সবশেষে ফিংগার প্রিন্ট দেওয়ার জন্য গত ৪ মে কেরানীগঞ্জ অফিসে তাকে তলব করা হয়। তিনি সেখানে বেশ আগ্রহ নিয়ে ফিংগার প্রিন্ট দেওয়ার জন্য হাজির হন। সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে চেয়ারে বসেন। বেশ উৎসাহ উদ্দীপনায় হাত এগিয়ে দেন নাহিদা। তখনই তার মাথায় যেন বজ্রঘাত নেমে আসে।

তাকে দেওয়া হয় দুঃসংবাদ। ‘সরি, এই এনআইডিতে (নং- ৩৩১৩১৬৬৩৬৯) ইতোমধ্যে পাসপোর্ট হয়ে গেছে। আরেকজন নিয়ে গেছে। পাসপোর্ট নং এ-১৬৪৪৫৪৮৮। পিতা- মরহুম মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মাতা- নাজমুন নেছা। ঠিকানা- নতুন বাগবাড়ি, উত্তর ধলিয়া, ফেনী সদর, বালুয়া চৌমুহনী, ৩৯০০ ফেনী। অথচ প্রকৃত নাহিদার পিতা জীবিত। তার ঠিকানা, হাজিপুর সোনাগাজী, ভোরেরবাজার ফেনী, ৩৯৩২।
কেরানীগঞ্জের ফিংগার প্রিন্ট কাউন্টার থেকে এমন তথ্য পেয়ে মাথায় হাত পড়ে নাহিদার। তিনি ঘামতে থাকেন। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় নাহিদার একের এক এক প্রশ্ন- এটা কি করে সম্ভব। আমি তো জীবনে কোনোদিন পাসপোর্ট করিনি। তাহলে কে আমার এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলল।

তাকে আরও জানানো হয়, শুধু পাসপোর্টই বানানো হয়নি, ওই নারী সেটা দিয়ে বিদেশেও চলে গেছে। সেখানে বসেই নাহিদা জানতে পারেন ওই নারী একজন রোহিঙ্গা। তারপর নাহিদার কি অবস্থা হয়েছে, সেটা ভুক্তভোগী ছাড়াও যে কোনো সচেতন মানুষের পক্ষেই অনুমেয়।

এটা শুধু নাহিদার বেলায় নয়, এমন অনেকেই পাসপোর্ট করতে গিয়ে দেখেন তাদের এনআইডি দিয়ে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট তৈরি করে দেশ ছেড়ে যাচ্ছে। আর তাতে সহযোগিতা করছে কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস থেকে শুরু করে আগারগাঁওয়ে হেড অফিসের একটি শক্তিশালী চক্র। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই তারা রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছে পাসপোর্ট। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এমন কঠিন কাজটি করছে পাসপোর্টের দুর্নীতিবাজ, দালাল ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। শুধু রাজধানীর প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসেই এ ধরনের অভিযোগ মিলছে। ভিকটিমদের কান্না ও আহাজারির চিত্র সর্বত্র। কিন্তু কিভাবে সম্ভব এ ধরনের ভয়াবহ জালিয়াতি ও দুর্নীতি করা।

জানতে চাইলে পাসপোর্টের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালক প্রশাসনের কাছে বারবার ফোন করেও তাদের মুখ থেকে কোনো কথা শোনা যায়নি। সবাই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। বারবার ফোন করার পর কেরানীগঞ্জের মহের উদ্দিন শেখ বলেন, আমি শুনেছি, জেনেছি, আমার কাছে এসেছিল নাহিদা। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মেয়েটিকে পাসপোর্ট দেওয়ার। আগের পাসপোর্ট বাতিল করারও চিঠি হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু হেড অফিস থেকে গত ছয় মাসেও কোনো উত্তর বা জবাব আসেনি। এজন্যই এত দেরি হচ্ছে। আসলে এখানে আমার অফিসের কোনো দায় নেই।

এদিকে নাহিদা এখনো পাসপোর্ট পাননি। তাকে শুধু কেরানীগঞ্জ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্যারেড করানো হচ্ছে। তার অভিভাবক আগারগাঁওয়ে অফিসের চারতলায় এ বিষয়ে জানতে গেলে বলা হয়, ৪/৫ মাসে এসব কাজ হয় না। আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। কেরানীগঞ্জ থেকে পাঠানো পাসপোর্ট বাতিলের চিঠির তদন্ত করতে হবে। এ সবই পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট নিতে হবে, নকল নাহিদার সঙ্গে কথা বলে, ডিজির কাছে রিপোর্ট তৈরি করে দিতে হবে। তারপর ওই পাসপোর্ট বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট নাহিদাকে দিতে হবে।

ভুক্তভোগীর প্রশ্ন জালিয়াতি যিনি করেছেন, তাকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পাসপোর্ট অফিস। অথচ জাতীয় সার্ভার ও ইমিগ্রেশন থেকে দশ মিনিটেই তথ্য নেওয়া সম্ভব ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে নকল নাহিদা কোন্ দেশে কত তারিখে গিয়েছেন। তার প্রকৃত বংশ ঠিকানা মুহূর্তেই উদ্ধার করা সম্ভব। এ কাজটিই পাসপোর্ট অফিস গত ছয় মাসে করতে পারেনি। আরও কত মাস লাগাবে সেটাও বলতে পারছে না। বর্তমান পাসপোর্ট অফিসের সেবার মান কতটা ভয়াবহ এটাই তার বড় প্রমাণ।

এ বিষয়ে গত ৫ দিন ধরে আগারগাঁও গিয়ে দেখা যায়, নাহিদার মতো এমন আরও কজন ভুক্তভোগীর এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে নিয়ে গেছে রোহিঙ্গারা। হেড অফিসেই রয়েছে রোাহিঙ্গাদের জন্য বিশেষ একটি সিন্ডিকেট। যারা গত সাত বছর ধরেই এমন অপকর্ম করে আসছে। এটা সবাই জেনেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

কজনের এনআইডি দিয়ে আরেকজন কিভাবে পাসপোর্ট তৈরির সুযোগ পায়, এটা কিভাবে সম্ভব এ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পাাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেরানীগঞ্জ অফিসে দালালি করেন এমন কয়েকজন নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, অনলাইনে আবেদন পাসপোর্টে আবেদন করার পর, সেটা যখন ডাটা এন্ট্রির দায়িত্বে লোকজন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, তখনই ধরতে পারেন এটার প্রকৃত কার্ডধারীর কিনা। যেমন- একজনের আইডিতে আরেকজন ছবি সংযোজন করে থাকলেও সেটা সার্চ দিলেই তো জাতীয় সার্ভার থেকে ডিফার করে। তখন সংশ্লিষ্ট সেকশন থেকে আবেদনকারীকে এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তলব করাটা বাধ্যতামূলক। রফাদফাটা তখনই হয়ে থাকে। কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক অফিস থেকে যেভাবে নাহিদার এনআইডি দিয়ে অন্য নারী পাসপোর্ট তৈরি করে নিয়ে গেছে, এটা কিছুতেই সম্ভব নয় তাদের অজ্ঞাতসারে।

এখানে ভুল বা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। অফিসের লোকজনদের ম্যানেজ করেই পাসপোর্ট নিয়ে গেছে আরেক নারী। যতদূর শোনা যাচ্ছে নাহিদার এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে নিয়ে গেছে একজন রোহিঙ্গা নারী। পরে যখন নাহিদা নিজে আবেদন করে ফিংগার প্রিন্ট করতে এসে দেখেন, ওই আইডিতে পাসপোর্ট হয়ে গেছে, তখনই তাদের টনক নড়ে। ওরা ভাবতে পারেনি, নাহিদের পরিবার থেকে এভাবে প্রতিবাদী হয়ে উঠবে। বিশেষ করে তার অভিভাবক জনকণ্ঠের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেটা জানার পরই অফিসে তোলপাড় দেখা দেয়। তখনই তারা ওই পাসপোর্ট বাতিলের আবেদন জানিয়ে হেড অফিসে চিঠি পাঠায়। কিন্তু হেড অফিস গত ছয়মাসেও ্এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারেনি। এতেই বোঝা যায়, মানুষ এখানে কতটা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কেরানীগঞ্জ অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে এডি মোহর শেখ সবাই এ সিন্ডিকেটে অর্জিত টাকার ভাগবাটোয়ারা পেয়ে থাকে। হেড অফিসেরও ডাটা এন্ট্রি শাখার একটি চক্র এই সিন্ডিকেটে সক্রিয়।

এ ধরনের দুনম্বরি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ অফিসের দালাল চক্র জানিয়েছে, কমপক্ষে দু’ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। কেননা, এটা তো আসলেই খুব ঝুঁকিপুর্ণ কাজ। যে কারণে মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়া তারা কেউ-ই তা করতে রাজি হয় না। ওরা এটা নিশ্চিত জানে যে, এটা ধরা পড়বেই। তখন এর দায় নিতে হবে। এজন্য আঞ্চলিক অফিস থেকে শুরু করে হেড অফিস পর্যন্ত প্রতিটি দপ্তরকে ইনভলভ করে, যাতে এককভাবে কাউকে শাস্তি পেতে না হয়।

এ সম্পর্কে আগারগাঁও অফিসে গিয়ে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, পাসপোর্ট অফিসে যে ঘুষ লেনদেন দিয়ে সব ধরনের জালিয়াতি করা যায় এটা মোটামুটি ওপেন সিক্রেট। দেশের প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসের সঙ্গে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে যুগ যুগ ধরে। মাঝে দুদক কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লোক দেখানো এক দু’মাসের সাজা দেয়, চিহ্নিত দালালদের। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ওখানেই শেষ। হামিদ নামের এক ভুক্তভোগী জানান, এখানে শুধু দালালদের দৌড়ের ওপর রাখা হয়। বাকি সবাই থাকে আনটাচড। অথচ দুদকের কাছেই তালিকা রয়েছে পাসপোর্ট অফিসের শতাধিক শীর্ষ দুনীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের। তারা সব সময়েই বহাল তবিয়তে। সর্বশেষ র‌্যাব যখন হানা দিয়েছে মাস দুয়েক আগে তখন শুধু দালালদের ধরার পর তারা চিৎকার করে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছে। একজনকে চিৎকার করতে শোনা গেছে, বারবার শুধু আমাদের মত গরিব দালালদের ধরছেন কেন, আলালদের ধরেন না কেন? তাতে অভিযানকারীদের মাথা নিচু করে চুপ থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে পেশাদার দালালদের দেওয়া তথ্যমতে দেখা যায়, হেড অফিস ও ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে মাসে অন্তত ৫ কোটি টাকার ওপরে ঘুষ লেনদেন হয়। আর এই টাকা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে দালালদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে থাকে। নতুন পাসপোর্টের আবেদন ও সংশোধনকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে দালালরা এই টাকা নিয়ে থাকে। দালাল ছাড়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো কাজই হয় না এখানে। পুরানো দালালের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন দালালও। বছরের পর বছর ধরে অফিসটি চিহ্নিত দালালের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে রয়েছে। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে দালালদের গ্রেপ্তার করলেও তাদের দৌরাত্ম্য থামছে না।

এ বিষয়ে বারবার ফোন করা হলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার কোনো কথা বলেননি। তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেয়ারুজ্জামান বলেন, পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। আমাদের যে কয়েকটি সেবা খাতে দুর্নীতি হয়, তার মধ্যে পাসপোর্ট অন্যতম। এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তা ছাড়া দালালরা কোনোভাবেই এ ধরনের অপকর্মে জড়িত হতে পারে না। শুধু যে ঢাকা বিভাগীয় তা নয়, সারাদেশের পাসপোর্ট অফিসের একই চিত্র। বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট হয়, সেখানে কিছু ত্রুটি ইচ্ছে করেই রাখা হয়েছে, যাতে দুর্নীতি করার সুযোগ থাকে। এটা বড় দুর্ভাগ্যজনক।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ঢাকা বিভাগীয় অফিসে আবেদনকারী-দর্শনার্থী মিলে ২/৩ হাজার লোক আসে। এর মধ্যে নতুন পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন জমা পড়ে ৫শ’র বেশি। এ হিসেবে মাসে ১৫ হাজারের কিছু বেশি জমা হয়। এখানে শতকরা ৯০ শতাংশ দালাল আবেদনকারীদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করে কাজ বাগিয়ে নেয়। তারা প্রতি পাসপোর্টের পেছনে ৩/৪ হাজার টাকা করে নিয়ে থাকে। সব মিলিয়ে মাসে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়। শুধু এ পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক নতুন পুরানো মিলে ২৩ জনের দালাল সিন্ডিকেট রয়েছে। আর এই সিন্ডিকেটের প্রধান হলো জীবন সিকদার। এছাড়াও মামুন সিকদার, সোহাগ, নুরজ্জামান, রফিক, জাকির হোসেন শহীদুল, জুয়েল রানা, জুলমত খান, তানজীনা আকতার, এলাহী, রেজাউল ইসলাম, আব্দুল মোল্লা, রাজু, নয়ামিয়া, কুবাদ সিকদার, সোহেল, শাহীন সিকদার, রাশিদা, শিপন খান, মো. মহসিন, মো. নুরে আলম খোকন, মো. খোরশেদ ও মো. চান মিয়া।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন নিজেই দালালদের দিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশেষ সিন্ডিকেট। জাল-জালিয়াতির যত কাজ, দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট তৈরি ও ডেলিভারিসহ যে কোনো ধরনের কাজ করা যায় অতি সহজেই। শুধু তাদের এনলিস্টেড দালাল ধরলেই অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। এ অফিসের সামনে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৯০ জন দালাল জড়ো হয়ে পাসপোর্ট করতে আসা প্রার্থীদের সঙ্গে অফিসের অনিয়ম ও হয়রানির কথা বলে প্রার্থীদের চেইন সিস্টেমের প্রস্তাব দেয়। চেইন সিস্টেম হলো- সরকারি ফি (জরুরি ৮০৫০ টাকা এবং অতিজরুরি ১০৩৫০ টাকা) বাদে অতিরিক্ত টাকা প্রদান অর্থাৎ প্রতি আবেদনে ১৪/১৫ হাজার টাকা দিলে দালালরা অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশে প্রার্থীর আবেদন করা থেকে ভেরিফিকেশন এবং পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত সকল কাজ করে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেয়। দালালরা অফিসের অসাধু কর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রার্থীদের লাইনে না দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র বিশেষ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সহজেই জমা দেওয়ার কার্যক্রম শেষ করে।

জানা যায়, একজন আবেদনকারী অনলাইনে আবেদনের পর পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমাসহ ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর অনলাইনে পাসপোর্ট দেওয়ার দিন ধার্য হয় প্রায় দেড় থেকে দুই মাস পর। এই সময়টি অনেক দীর্ঘ হওয়ায় আবেদনকারী দালালদের শরণাপন্ন হন। তখন একজন দালাল প্রতি পাসপোর্টে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বাড়তি নিয়ে এখানকার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজ করে দিয়ে থাকে। আর যদি নাহিদার মতো প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা থাকে, তাহলে দরদাম ওঠে কয়েক লাখ।
এছাড়াও আবেদনকারী ই-পাসপোর্টের জমা দিতে গেলে নামের বানান ভুল, ঠিকানা বদলের মতো কেস হয়, তাহলে আরও বিপত্তি। পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিসে আসার পরেও পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ আপডেট করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করে।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Probashir city Popup
Probashir city Squre Popup