নরসিংদীর চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ ১৮ বছর পর অবশেষে দেশে ফিরে এসেছেন। তবে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে আটক থাকার কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, বাকশক্তি হারিয়েছেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দেশে ফিরেও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পারেননি, কারণ এতদিনে বাবা-মা মারা গেছেন এবং স্ত্রী অন্যের সংসারে স্থির হয়েছেন।
জাহাঙ্গীর আলম, ৬৬ বছর বয়সী এই প্রবাসী, মূলত জেলে পেশায় নিযুক্ত ছিলেন এবং মাছ ধরেই জীবিকা চলত তার। ভাগ্য বদলের আশায় তিনি দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যান, যেখানে প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি না পেয়ে পরিবার তাকে মৃত বলে ধরে নেন।

আরও
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার জানান, মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাথমিকভাবে জাহাঙ্গীরকে কোনো পরিচয়পত্র ছাড়াই একটি ক্যাম্পে আটক অবস্থায় দেখতে পায়। হাইকমিশন তার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে স্থানীয় একজন নরসিংদী বাসিন্দা তাকে চিহ্নিত করেন। এরপর প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় জাহাঙ্গীরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘদিন পর ৭ নভেম্বর দেশে ফেরা জাহাঙ্গীর আলমকে বিমানবন্দর থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
জাহাঙ্গীরের বড় ছেলে আমান উল্লাহ জানিয়েছেন, বাবা ফিরে আসায় পরিবার আবেগে আপ্লুত। চরদিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা সেলিনা আক্তার বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের মতো কোনো ঘটনা আর যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা চালানো হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেছেন, দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করা পরিবার জীবনের জন্য বিরাট ক্ষতি হতে পারে।









