উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কারসাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও বিভিন্ন প্রতারণা ঠেকাতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। এ লক্ষ্যেই টিকিট–সংক্রান্ত যেকোনো প্রতারণা বা হয়রানির অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে দুটি সংশোধিত অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার জন্য ১১টি নতুন দণ্ডনীয় অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। নতুন আইনে অবৈধ টিকিট বিক্রি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, তৃতীয় দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় ও গ্রুপ বুকিংয়ে যাত্রীর তথ্য পরিবর্তনের মতো অপরাধগুলোকে কঠোর শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও জানান, যাত্রীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে এখন থেকে সব ট্রাভেল এজেন্সিকে এয়ারলাইনসের টিকিটে মূল্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করতে হবে। মূল্য অস্বচ্ছ রাখলে বা গোপন করলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিমান পরিবহন খাতের ৮০ শতাংশ যাত্রীই অভিবাসী কর্মী; নতুন বিধান তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ টিকিটসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও
নতুন আইনে সরকারকে প্রয়োজনে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন স্থগিত, প্রতারণাকারীর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ডিজিটাল টিকিট বিতরণ ব্যবস্থায় জিডিএস ও এপিআইভিত্তিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচল, ট্যারিফ মনিটরিং, কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাস, এবং সাইবার সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো আধুনিক বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর টিকিট কারসাজির উদাহরণ তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ৩০–৪০ হাজার টাকার টিকিট ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করে বিদেশে পাচার করা হয়। তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে একটি এজেন্সির টিকিট অন্য এজেন্সির মাধ্যমে বিক্রির সুযোগ থাকবে না, ফলে আড়তদারির মাধ্যমে টিকিট বাণিজ্যের নৈরাজ্য বন্ধ হবে। এ সময়ে জিএসএ কর্মীদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ দাবি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, অতিরিক্ত সচিব ফারহিম ভীমা এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।












